প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আজ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ‘ডাববাগান যুদ্ধ দিবস’
মোঃ আরিফুল ইসলাম,, পাবনা জেলা প্রতিনিধি, ||
আজ ১৯ এপ্রিল পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক 'ডাববাগান যুদ্ধ দিবস' ১৯৭১ সালের এই দিনে (১৯ এপ্রিল) সাঁথিয়া উপজেলার ডাববাগান এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধা ও ইপিআর বাহিনীর এক সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে পরিচিত এবং এদিন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণরা অসীম সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছিলেন। ডাববাগান দিবস সম্পর্কে ইতিহাস ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল সাঁথিয়া এলাকার ডাববাগানে পাকবাহিনীর সাথে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাগণদের যুদ্ধ হয়েছিল। এটি সাঁথিয়ার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক যুদ্ধ, যা স্থানীয় পর্যায়ে 'ডাববাগান যুদ্ধ' নামে পরিচিত। একাত্তরের ১৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে আসা পাক হানাদার বাহিনী উত্তর জনপদের ডাববাগান অর্থাৎ বর্তমান শহীদনগর পাইকরহাটী গ্রামে মুক্তিসেনাদের মুখোমুখি হয়। ওই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইপিআর সুবেদার গাজী আলী আকবর। তাঁহার বাড়ী কুষ্টিয়া জেলার শান্তিডাঙ্গা গ্রামে। এ যুদ্ধে অংশ নেন বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাগণরা জানান, একাত্তরের ১৯ এপ্রিল দুপুরে নগরবাড়ী ঘাট হয়ে এই রাস্তা দিয়ে পাকসেনারা বগুড়া যাবার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মুক্তিসেনারা সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের পাইকরহাটী ডাববাগানে অবস্থান নেন। প্রথমত: পাকসেনারা সম্মুখ যুদ্ধে টিকতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতি স্বীকার ও হতাহতের পর পিছু হটে নগরবাড়ী ফিরে যায়। যুদ্ধে প্রায় ৫০ জন পাকসেনা নিহত হয়। এদিকে ওই সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ইপিআর হাবিলদার মমতাজ আলী, হাবিলদার আব্দুর রাজ্জাক, নায়েক হাবিবুর রহমান, সিপাহী এমদাদুল হক, সিপাহী ঈমান আলী, সিপাহী রমজান আলীসহ আরও অনেক ইপিআর সদস্যগণরা। পাকবাহিনী ওই সকল শহীদ ইপিআর সদস্যগণদের দেহে এসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। স্থানীয় লোকজন জানান, সেদিন পাকসেনারা গ্রামবাসীর উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। একে একে পুঁড়িয়ে দেয় ডাববাগানের পার্শ্ববর্তী রামভদ্রবাটি, কোড়িয়াল, বড়গ্রাম, সাটিয়াকোলা গ্রাম। পাকসেনারা নির্বিচারে গুলি চালায় নিরীহ গ্রামবাসীর উপর। বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে শত শত গ্রামবাসীগণদেরকে। তাদের মধ্যে করমজা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডা: আফাজ উদ্দিন, আব্দুল লতিফ, শেখ কাজেম আলী খাঁ, খোয়াজ শেখ, পিয়ার মন্ডল, জাকের আলী শেখ, সৈয়দ আলী মোল্লা, মহর আলী, জগত নারায়ণ বিশ্বাস, সন্তোষ আলী, শাহজাহান বিএসসি, ফরিদা পারভীন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।এলাকাবাসীরা শহীদগণদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে জায়গাটির (ডাববাগান) নতুন নামকরণ করেছেন ‘শহীদনগর’। শহীদনগরে রয়েছে ইপিআরদের ‘গণকবর’। এখানে ঘুমিয়ে আছেন শত শত মুক্তি পাগল শহীদ গ্রামবাসীগণরা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: হুমায়ুন কবির সবুজ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে