মোঃ মামুনুর রশিদ
বন্ধুর সঙ্গে নিয়মিত ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে কথা বললেই কি সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়? নতুন এক গবেষণা বলছে, বিষয়টি সবসময় তেমন নয়।যুক্তরাষ্ট্রের ‘পাবলিক হেলথ রিপোর্ট’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় কাটানো বা অনলাইনে বেশি মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকা সবসময় একাকীত্ব কমায় না। বরং যাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের সংখ্যা বেশি তারা তুলনামূলকভাবে বেশি একাকী অনুভব করেন।গবেষণাটি ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সি ১ হাজার ৫০০-এর বেশি আমেরিকানের ওপর করা হয়। গবেষণার প্রধান লেখক এবং ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ডা. ব্রায়ান প্রাইম্যাক বলেন, কাছের বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ থাকলেও তা একাকীত্ব কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়।তার মতে, বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বের বিকল্প কখনও পুরোপুরি অনলাইন যোগাযোগ হতে পারে না। তিনি বিষয়টিকে তুলনা করেছেন আপেলের স্বাদের সিরিয়ালের সঙ্গে আসল আপেলের পার্থক্যের সঙ্গে। দেখতে বা স্বাদে কাছাকাছি হলেও শরীরে দুটির প্রভাব এক নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে একাকীত্ব বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনোভাবে একাকীত্ব অনুভব করেন। দীর্ঘ সময় সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে।তাহলে কীভাবে তৈরি হবে বাস্তব বন্ধুত্ব?নিউ জার্সির ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মেলিসা গ্রিনবার্গের মতে, নতুন বন্ধু তৈরি করতে হলে বাস্তব জীবনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া জরুরি। বই পড়ার ক্লাব, ফিটনেস ক্লাস, আর্ট ক্লাস, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়া নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ভালো উপায় হতে পারে।তিনি বলেন, সাধারণত মানুষ তাদের মতো আগ্রহ বা চিন্তাধারার মানুষের সঙ্গেই বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। তাই নিজের পছন্দের কাজের মধ্যেই বন্ধুত্বের সুযোগ বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাইরে গেলে সবসময় ফোনে ব্যস্ত না থেকে আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা উচিত। কারণ, স্ক্রিনে ডুবে থাকলে বাস্তব যোগাযোগের সুযোগ কমে যায়।নতুন কারও সঙ্গে কথা শুরু করার ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কাজে আসতে পারে। শুধু ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেস না করে এমন প্রশ্ন করা ভালো, যার উত্তর একটু বিস্তারিতভাবে দেওয়া যায়। যেমন, ‘এই সপ্তাহিক ছুটিতে কী করেছেন?’ বা ‘এলাকায় আপনার প্রিয় কফিশপ কোনটি?’এ ছাড়া ছোটখাটো প্রশংসাও সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বিশেষজ্ঞরা সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে বলছেন না। বরং এটি যেন বাস্তব সম্পর্ক ধরে রাখার একটি মাধ্যম হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কাছের মানুষদের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানো বা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রাখা ইতিবাচক হতে পারে।ডা. ব্রায়ান প্রাইম্যাকের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সেটি আমাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সচেতনভাবে ভাবা দরকার।গবেষকদের মতে, একাকীত্ব কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় এখনও বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও মুখোমুখি যোগাযোগ। আর গরমের এই সময় বাইরে বের হয়ে মানুষের সঙ্গে মেশার জন্যও বেশ উপযুক্ত।সূত্র: সিএনএন