প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর)দের অবাধ যাতায়াত ও চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ রোগী ও সচেতন মহলের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ঔষধ বিক্রির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিরা কেন হাসপাতালের চিকিৎসকদের কক্ষ ঘিরে অবস্থান করেন?সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে বলা হয়, “ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভদের কাজ হওয়া উচিত ফার্মেসি ও ওষুধ বিক্রয়কেন্দ্রে জনসংযোগ করা। কিন্তু তারা দিনের পর দিন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পেছনে ঘুরছেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”বক্তব্যে আরও বলা হয়, “ডাক্তাররা দীর্ঘ পড়াশোনা, ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসক হয়েছেন। তাদেরকে ওষুধ সম্পর্কে আলাদা করে বোঝানোর প্রয়োজন পড়ে কেন—এ প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।”রোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে এমআরদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাধারণ রোগীদের অপেক্ষা করতে হয়। এতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।সচেতন মহলের একাংশ মনে করছেন, সরকারি হাসপাতালে এমআরদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকদের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বৈঠক জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।তবে ওষুধ কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন ওষুধ, ডোজ, ব্যবহারবিধি ও গবেষণালব্ধ তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের মূল কাজ। এটি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত একটি পেশাগত কার্যক্রম বলেও তারা উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, রোগীর স্বার্থ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর নজরদারি। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।