নড়াইল প্রতিনিধি , নড়াইল
নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড কোমখালী গ্রামে প্রবাসী মোঃ মিলন শেখের বসতবাড়ি ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে জবরদখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মৃত জিল্লু শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রাজু, মনিরা বেগম ( ৩৫), পিতা - মৃত জিল্লু শেখ ও জান্নাতি বেগম(২৫) স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন গংদের বিরুদ্ধে। প্রবাসীর স্ত্রী জুলিয়া বেগম (৩০) তার শিশু সন্তানকে নিয়ে প্রান ভয়ে এক কাপড়ে পাশের বাড়ি আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।এই ঘটনায় নড়াইল বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী জুলিয়া বেগম।ভুক্তভোগীর আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও মৌখিক অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,আসামীদের সাথে বাদীর বসত বাড়ির জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল।বাদীর শাশুড়ী রীনা বেগম (৬২) উক্ত জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হন। যার সিনিয়র সিভিল জজ আদালত মামলা নং ৪৫৪/২৫।মামলার বাদী জানান,গত ৭ ই মে ২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত বাদীর পক্ষে রায় দিয়েছেন। গত ৯ ই মে বিজ্ঞ আদালতের রায়ের কপি হাতে পেয়ে আদালতের রায় অবমাননা করে মৃত জিল্লু শেখের ছেলে আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রাজু, মনিরা বেগম ( ৩৫), পিতা- মৃত জিল্লু শেখ ও জান্নাতি বেগম (২৫) স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে জুলিয়া বেগমের ঘরের দরজা ভেঙে নগদ দের লক্ষ টাকা ও দুই ভরি সোনার গহনা লুট করে নেয়, এবং তার ঘরে তালা মেরে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। যাওয়ার সময় আসামীরা এই ঘটনা নিয়ে মামলা বা অভিযোগ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে জানান ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে প্রবাসি মিলন শেখের বড় ভাই মোঃ রিয়াজ শেখ জানান,স্থানীয় এম পি মহোদয়,চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ সবাই বিষয়টি জানে,আর্মি ক্যাম্পে কাগজ পত্র দেখাদেখি হয়েছে।আমাদের কাগজ পত্র সঠিক থাকায় কেউ আমাদের বিপক্ষে কোন রায় দেয়নি।আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও আসামীর গেট তৈরি করে বাড়িতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের আটটি গরু রয়েছে। গরুর খাবার ঘরে আটকা পরে রয়েছে।এদিকে গরুগুলো না খেতে পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে। এছাড়াও সংসারের প্রয়োজনীয় সবকিছু ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখেছে তাঁরা।,প্রশাসনের কাছে অনুরোধ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে আমাদের বসতবাড়ি অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হোক।প্রবাসী মোঃ মিলন শেখের শিশু সন্তান হাসনাত শেখ(৬) এর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। তার বই খাতা ঘরে তালাবদ্ধ। বই খাতা আনতে গেলে মনিরা আর জান্নাতি মারতে আসতেছে বলে জানায় সে।ভুক্তভোগী জুলিয়া বেগম জানান, নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে দীর্ঘ সাত বছর যাবত আমি ঐ ঘরে বসবাস করি।আমার সংসারের যাবতীয় জিনিসপত্র ঐ ঘরে রয়েছে। আমার ছেলের বই খাতা তালাবদ্ধ থাকায় সে পরিক্ষা দিতে পারেনি।আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আমার বসতবাড়ি আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।