মোঃ হুমায়ূন কবীর, বার্তা সম্পাদক
বহু প্রতীক্ষার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আলোচিত সেই ডাক্তার রাফসান জানি। নিজের শ্যালিকা সামিয়া আফরোজকে ৭ম শ্রেণী থেকে ধর্ষণের মামলা, সাংবাদিকদের মানহানি ও হামলা সহ একাধিক মামলার আসামি লম্পট ডাক্তার রাফসানকে আটক করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম।যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম-এর কঠোর দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ অভিযানে যশোর কোতোয়ালী থানাধীন বাহাদুরপুর রজনীগন্ধা তেল পাম্পের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে রাফসানকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশ।উল্লেখ্য যে, প্রায় দুই মাস আগে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী সামিয়া আফরোজ মণিরামপুর থানায় নিজের আপন দুলাভাই ডাক্তার রাফসান জানির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়া বাসায় রেখে ৭ম শ্রেণি থেকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে ডাক্তার রাফসান এবং গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেইল করছে।এর আগেও সামিয়া আফরোজ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও হাতিবান্ধা থানায় রাফসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নিরাপত্তা হীনতার অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে মণিরামপুর থানার শরণাপন্ন হন। সেই থেকে ডাক্তার রাফসান বিনাছুটিতে আত্মগোপনে থেকে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকদের হয়রানী করতে কিছু অর্থলোভী সুযোগ সন্ধানী লেবাসধারী সাংবাদিকদের সাথে আতাত করে একের পর এক অপরাধে লিপ্ত হয়। সামিয়া আফরোজকে সহযোগিতাকারী মণিরামপুর, যশোর এবং অভয়নগরের কিছু সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা ও ভুক্তভোগীকে হাতে পেয়ে পারিবারিক চাপে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করায় লম্পট ডাক্তার রাফসান জানি।এতেও থেমে থাকেনি সে, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে মণিরামপুর থানার সাবেক ওসির নামেও মামলা করে সে। কিন্তু সত্যের জয় চিরন্তন, তার সকল কুচক্রের অবসান ঘটিয়ে আজ তাকে আটক করে মণিরামপুর থানা পুলিশের চৌকস টিম।সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ সম্মেলন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও দায়ের করেন যশোরের সাংবাদিকেরা। এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।দেশের বৃহৎ স্বনামধন্য বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন থেকে ডাক্তার রাফসানের কৃতকর্মের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের জড় উঠে। বিনা ছুটিতে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুপস্থিত থাকাতে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশের বিশেষ টিমের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকেরা সহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।অবিলম্বে তাকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে গণমাধ্যম কর্মীদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জোর দাবী ও অনতিবিলম্বে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।সার্চটুডে পরিবারের সদস্য হতে যোগাযোগ করুন।অর্থ-ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেই বার্তা এখন প্রশাসনকে কার্যকরভাবে প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী মানববন্ধনের ডাক দিবে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।