কে এম জহুরুল হক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মানিক ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সংযোগ সড়ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে চলমান এ প্রকল্পের কাজ করছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঠিকাদার শ্যামল কুমার।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই কাজ পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের টানা বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়া রাস্তার ওপর প্রয়োজনীয় বেড প্রস্তুত না করেই তড়িঘড়ি করে দুই নম্বর ইট বিছানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কাদা ও নরম মাটির ওপর সরাসরি ইট বসানো হয়েছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, নতুন ভরাট করা রাস্তা শক্ত হওয়ার আগেই সেখানে ইট বসানোর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা দেবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রাতের আঁধারে তা এনে রাস্তা ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও নদী রক্ষা আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।শুধু এই প্রকল্পই নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের রাস্তা মেরামত এবং সিসি ঢালাই কাজেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বালু মেশানোর কারণে নির্মাণকাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৪ ইঞ্চির পরিবর্তে মাত্র ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্প এলাকায় কাজের সঠিক তদারকি নেই এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তব কাজের মধ্যেও বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম আবু মোতালেবের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও তার অধীনে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম আবু মোতালেব বলেন,“কাজ সঠিকভাবেই হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি।”এদিকে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে।