প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যার প্রতিবাদে রোববার (৩১ মে) সকালে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বেলা সাড়ে ১০টা থেকে হামলাকারীদের পাঁচটি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নিহত জুবায়ের হোসেন রাকিব শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। তার বাবা ও এক ভাই বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিন-চার দিন আগে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়।সেখানে উপস্থিত কয়েকজন রাকিবকে স্থান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে পাকমুন্সিরহাট বাজার সংলগ্ন একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়।অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ছোট ভাই রিমনও হামলার শিকার হয়ে আহত হন।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন হামলাকারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাঁচটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আরও তিনটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি বলেন, “রাকিব হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।