প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৮ শিশু।রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী।মৃত শিশুর নাম সাওবান (সাড়ে ৩ বছর)। সে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌরকড়া গ্রামের মো. ওসমানের ছেলে। গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে হামের উপসর্গ নিয়ে সাওবানকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নিউমোনিয়াও ছিল। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছিলেন। কিন্তু শুক্রবার বিকেলের দিকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা জটিল হওয়ায় ১০ থেকে ১৫ জন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট ও শিশু ওয়ার্ডে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১০৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ জন শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছে এবং শিশুদের প্রতি বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।