প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সেনবাগ থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শহীদ উল্যা (৭০) গত ৩ জুন সেনবাগ থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকায় বসবাসরত তার ছেলে ও পুত্রবধূ বাড়িতে এসে বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে তারা পারিবারিক মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমিতে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জুন সকালে ঘর নির্মাণের জন্য জমি পরিমাপ ও প্রস্তুতির সময় অভিযুক্তরা সেখানে এসে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি থানায় মীমাংসার পরামর্শ দেয়। পরে বাদীপক্ষ ঘর নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।এরপর ২ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় বাদীর ছেলে সাহেদ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। এতে সাহেদ হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম এবং সাইফুল ইসলামের চোখের উপরে আঘাত লাগে। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে ঘরের বিভিন্ন মালামাল নষ্ট করে। এ সময় একজনের গলায় থাকা প্রায় ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যাহার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা এবং ঘরে থাকা গরু বিক্রির ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।আহতদের স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত একজনকে পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় রাজু, শাওন, সাব্বির হোসেন শাকিল, আলো, মিন্টু, জনি, রনি, আবু ছায়েদ, আবুল হোসেন, শাকিব, মঞ্জু, আনসার আলী ও মাসুদসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সেনবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে সেনবাগ থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।