যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই হামলার ঘটনার সংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মসজিদে ভাঙচুর ও বোমা হামলার হুমকি থেকে শুরু করে মুসলিম নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন অন্তর্ভুক্ত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এমপ্যাক)।
এতে আরও বলা হয়, মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া বা মসজিদে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ ঘটানোর কথাবার্তা সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় না। আর হঠাৎ করে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মানুষের কাছে এই ধরনের পরিভাষা ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
গত মাসে সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ) জানায়, তারা গত ১ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত মুসলিমদের প্রতি সুস্পষ্টভাবে অমানবিক আচরণ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা লক্ষ্য করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স প্ল্যাটফর্মে মুসলিম-বিরোধী পোস্টের সংখ্যা তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিএসওএইচ পর্যালোচিত বিষয়বস্তুর মধ্যে ব্যক্তিগত, বিদ্বেষপূর্ণ মতামত থেকে শুরু করে আইনপ্রণেতাদের প্রতি কঠোর মুসলিম-বিরোধী নীতি প্রণয়নের আহ্বান, এমনকি ‘মুসলিম বয়কট বা বর্জন আইন’ এবং সকল মুসলিমকে নির্বাসিত করার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কিন্তু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকেও এ ধরনের বাগাড়ম্বর আসছে, যা বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তুলছে বলে এমপ্যাকের পলিসি পেপারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন মূলত এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে নির্বাসনের আহ্বান জানিয়ে দাবি করেছেন, ‘যদি তারা আমাদের বেছে নিতে বাধ্য করে, তবে কুকুর ও মুসলমানদের মধ্যে পছন্দ করাটা কঠিন কিছু নয়।’
টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগেলসও বিশ্বাস করেন, ‘আমেরিকান সমাজে মুসলমানদের কোনো স্থান নেই’।
পলিসি পেপারে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভবত ৯/১১-পরবর্তী সময়ের মতো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রসারিত করবে। এর মধ্যে আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর কঠোর নজরদারি ও এফবিআইর তদন্তকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ঐতিহাসিকভাবে এ ধরনের পদক্ষেপগুলো নাগরিক স্বাধীনতা হরণের কারণ হয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুসলিম-বিরোধী মনোভাব এমপ্যাকের বর্ণনা অনুযায়ী ‘সংলগ্ন সম্প্রদায়’ বা অশ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়গুলোকেও প্রভাবিত করে; যেমন শিখ, হিন্দু, আর্মেনীয় ও খ্রিস্টান আরব আমেরিকানরা।
এমপ্যাকের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, টেকনোলজি অ্যান্ড পলিসির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক খুররাম জামান বলেন, মার্চ মাসে আমরা একটি বিষয় চিহ্নিত করতে পারি, আর তা হলো ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়া। ২০২৫ সালের আগে যা দেখেছিলাম এবং এখন যা দেখছি, তার মধ্যে এটাই মূল পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থাগুলো এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং ভুল তথ্য ও সহিংস হুমকি ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, ততক্ষণ মুসলিম আমেরিকানরা নিরাপদ থাকবে না। যখন আমাদের মসজিদ ও মুসলিমদের প্রসঙ্গ আসে, তখন জরুরি অবস্থার বোধটা দেখা যায় না।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
বিষয় : ইসলাম ধর্ম
.png)
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই হামলার ঘটনার সংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মসজিদে ভাঙচুর ও বোমা হামলার হুমকি থেকে শুরু করে মুসলিম নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন অন্তর্ভুক্ত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এমপ্যাক)।
এতে আরও বলা হয়, মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া বা মসজিদে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ ঘটানোর কথাবার্তা সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় না। আর হঠাৎ করে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মানুষের কাছে এই ধরনের পরিভাষা ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
গত মাসে সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ) জানায়, তারা গত ১ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত মুসলিমদের প্রতি সুস্পষ্টভাবে অমানবিক আচরণ ও সহিংসতায় উসকানিমূলক পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা লক্ষ্য করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স প্ল্যাটফর্মে মুসলিম-বিরোধী পোস্টের সংখ্যা তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিএসওএইচ পর্যালোচিত বিষয়বস্তুর মধ্যে ব্যক্তিগত, বিদ্বেষপূর্ণ মতামত থেকে শুরু করে আইনপ্রণেতাদের প্রতি কঠোর মুসলিম-বিরোধী নীতি প্রণয়নের আহ্বান, এমনকি ‘মুসলিম বয়কট বা বর্জন আইন’ এবং সকল মুসলিমকে নির্বাসিত করার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কিন্তু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকেও এ ধরনের বাগাড়ম্বর আসছে, যা বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তুলছে বলে এমপ্যাকের পলিসি পেপারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন মূলত এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে নির্বাসনের আহ্বান জানিয়ে দাবি করেছেন, ‘যদি তারা আমাদের বেছে নিতে বাধ্য করে, তবে কুকুর ও মুসলমানদের মধ্যে পছন্দ করাটা কঠিন কিছু নয়।’
টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগেলসও বিশ্বাস করেন, ‘আমেরিকান সমাজে মুসলমানদের কোনো স্থান নেই’।
পলিসি পেপারে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভবত ৯/১১-পরবর্তী সময়ের মতো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রসারিত করবে। এর মধ্যে আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর কঠোর নজরদারি ও এফবিআইর তদন্তকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ঐতিহাসিকভাবে এ ধরনের পদক্ষেপগুলো নাগরিক স্বাধীনতা হরণের কারণ হয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুসলিম-বিরোধী মনোভাব এমপ্যাকের বর্ণনা অনুযায়ী ‘সংলগ্ন সম্প্রদায়’ বা অশ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়গুলোকেও প্রভাবিত করে; যেমন শিখ, হিন্দু, আর্মেনীয় ও খ্রিস্টান আরব আমেরিকানরা।
এমপ্যাকের সেন্টার ফর সিকিউরিটি, টেকনোলজি অ্যান্ড পলিসির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক খুররাম জামান বলেন, মার্চ মাসে আমরা একটি বিষয় চিহ্নিত করতে পারি, আর তা হলো ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়া। ২০২৫ সালের আগে যা দেখেছিলাম এবং এখন যা দেখছি, তার মধ্যে এটাই মূল পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থাগুলো এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং ভুল তথ্য ও সহিংস হুমকি ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, ততক্ষণ মুসলিম আমেরিকানরা নিরাপদ থাকবে না। যখন আমাদের মসজিদ ও মুসলিমদের প্রসঙ্গ আসে, তখন জরুরি অবস্থার বোধটা দেখা যায় না।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
.png)
আপনার মতামত লিখুন