বরিশালে বিএম কলেজ শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে এই ঘটনা ঘটে।
এতে এক শিক্ষার্থী এবং এক বাসচাল আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, বিএম কলেজের মাস্টার্স দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী কাওসার হোসেন শাকিল এবং বিএমএফ পরিবহনের চালক রাজা মল্লিক। দুজনকেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় বিএমএফ পরিবহনের একটি বাসের জানালা ভাঙচুর করা হয়। এর প্রতিবাদে প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন বাস শ্রমিকরা।
আহত বাস চালক রাজা মল্লিক বলেন, তিনি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল ফেরার পথে উজিরপুরের ইচলাদীতে সাকুরা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পথের মাঝে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন বিএম কলেজের ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী রাস্তা না ছাড়ায় গাড়ির হর্ন বাজান তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থী বাসচালকের সঙ্গে তর্কে জড়ান।
চালক বলেন, বাসটি নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে যাত্রী নামানোর সময় কাওসারসহ বিএম কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে অতর্কিত হামলা করে গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করেন। তখন শ্রমিকরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা বলেন, কাওসারসহ চারজন ফিলিং স্টেশনে দাঁড়ানো ছিলেন। তখন বেপরোয়া গতিতে বিএমএফ বাসটি চালিয়ে আসায় তারা দুর্ঘটনার আতঙ্কে ছিলেন। নথুল্লাবাদে পৌঁছাবার পর বিএমএফ চালককে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর কারণ জানতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চালক এবং কাউন্টারের লোকেরা মিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।
এদিকে শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে ঘটনার পরপরই নথুল্লাবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। তারা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে বাস মালিক সমিতির নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে সড়ক অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারেফ হোসেন। তিনি বলেন, বিএমএফ বাসের চালকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটু ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। তা পাঁচ মিনিটেই সমাধান হয়েছে।
বরিশাল মেট্রপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়েছি। আমিসহ পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, দিলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
বরিশালে বিএম কলেজ শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে এই ঘটনা ঘটে।
এতে এক শিক্ষার্থী এবং এক বাসচাল আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, বিএম কলেজের মাস্টার্স দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী কাওসার হোসেন শাকিল এবং বিএমএফ পরিবহনের চালক রাজা মল্লিক। দুজনকেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় বিএমএফ পরিবহনের একটি বাসের জানালা ভাঙচুর করা হয়। এর প্রতিবাদে প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন বাস শ্রমিকরা।
আহত বাস চালক রাজা মল্লিক বলেন, তিনি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশাল ফেরার পথে উজিরপুরের ইচলাদীতে সাকুরা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পথের মাঝে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন বিএম কলেজের ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী রাস্তা না ছাড়ায় গাড়ির হর্ন বাজান তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থী বাসচালকের সঙ্গে তর্কে জড়ান।
চালক বলেন, বাসটি নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে যাত্রী নামানোর সময় কাওসারসহ বিএম কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে অতর্কিত হামলা করে গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করেন। তখন শ্রমিকরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা বলেন, কাওসারসহ চারজন ফিলিং স্টেশনে দাঁড়ানো ছিলেন। তখন বেপরোয়া গতিতে বিএমএফ বাসটি চালিয়ে আসায় তারা দুর্ঘটনার আতঙ্কে ছিলেন। নথুল্লাবাদে পৌঁছাবার পর বিএমএফ চালককে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর কারণ জানতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চালক এবং কাউন্টারের লোকেরা মিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।
এদিকে শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে ঘটনার পরপরই নথুল্লাবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। তারা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে বাস মালিক সমিতির নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে সড়ক অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারেফ হোসেন। তিনি বলেন, বিএমএফ বাসের চালকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটু ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। তা পাঁচ মিনিটেই সমাধান হয়েছে।
বরিশাল মেট্রপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়েছি। আমিসহ পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, দিলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন