সার্চ টুডে

রূপগঞ্জের সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘর ভাংচুরের প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন



রূপগঞ্জের সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘর ভাংচুরের প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন
ছবি - সার্চটুডে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেয়ারিয়া এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, বসত ঘর ভাংচুরসহ ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার

(২১ মে) সকালে উপজেলার কেয়ারিয়া এলাকা এ মানববন্ধন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী পবিত্র চন্দ্র সরকার,স্মৃতি রানী, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক জজ মিয়া,যুবদল নেতা নাদিম মিয়াসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। 

এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কেয়ারিয়া মৌজায় যুগযুগ বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায় ও মুসলিমরা মিলেমিশে বসবাস করে আসছি৷ 


যে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে, সেটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। প্রায় দেড়শ-দুইশ বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই জমি ও বসতবাড়ি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, গতকাল আমাদের এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু ইউসুফ ও জাহাঙ্গীর নামের দুই ভূমিদস্যু এবং সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী এসে আমাদের বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

ঘটনার সময় আমাদের বাড়ির পুরুষেরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না, আমরা কেবল নারীরাই ছিলাম। সন্ত্রাসীরা এসে আমাদের নারীদের সাথে চরম অসদাচরণ করে এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করে।

 আমরা যখন আমাদের পৈতৃক ভিটা রক্ষার্থে তাদের এই অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি, তখন তারা আরও উগ্র হয়ে ওঠে এবং আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে চলে যায়। একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা সাধারণ ও নিরীহ মানুষ কোনোভাবেই এমন আচরণ আশা করিনি। উনি জমির কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে যেভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের ওপর তাণ্ডব করালেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তার ভূমিকা যদি এমন হয়, তবে আমাদের মতো নিরীহ মানুষেরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবে? আমরা রূপগঞ্জবাসী, দেশবাসী এবং বর্তমান সরকারের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।

 একই সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ—তারা যেন তাদের এই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, এই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং এই দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


রূপগঞ্জের সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘর ভাংচুরের প্রতিবাদে এলাকাবাসির মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেয়ারিয়া এলাকার সংখ্যালঘু পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, বসত ঘর ভাংচুরসহ ভূমিদস্যুতার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার

(২১ মে) সকালে উপজেলার কেয়ারিয়া এলাকা এ মানববন্ধন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী পবিত্র চন্দ্র সরকার,স্মৃতি রানী, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক জজ মিয়া,যুবদল নেতা নাদিম মিয়াসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। 


এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কেয়ারিয়া মৌজায় যুগযুগ বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায় ও মুসলিমরা মিলেমিশে বসবাস করে আসছি৷ 


যে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে, সেটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। প্রায় দেড়শ-দুইশ বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই জমি ও বসতবাড়ি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, গতকাল আমাদের এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু ইউসুফ ও জাহাঙ্গীর নামের দুই ভূমিদস্যু এবং সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী এসে আমাদের বসতবাড়িতে আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

ঘটনার সময় আমাদের বাড়ির পুরুষেরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না, আমরা কেবল নারীরাই ছিলাম। সন্ত্রাসীরা এসে আমাদের নারীদের সাথে চরম অসদাচরণ করে এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করে।

 আমরা যখন আমাদের পৈতৃক ভিটা রক্ষার্থে তাদের এই অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি, তখন তারা আরও উগ্র হয়ে ওঠে এবং আমাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে চলে যায়। একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা সাধারণ ও নিরীহ মানুষ কোনোভাবেই এমন আচরণ আশা করিনি। উনি জমির কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই না করে যেভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের ওপর তাণ্ডব করালেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তার ভূমিকা যদি এমন হয়, তবে আমাদের মতো নিরীহ মানুষেরা নিরাপত্তার জন্য কোথায় যাবে? আমরা রূপগঞ্জবাসী, দেশবাসী এবং বর্তমান সরকারের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।

 একই সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ—তারা যেন তাদের এই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, এই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং এই দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।




সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে