যশোরে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা এবং জোর করে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর বাবা যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর দাসপাড়ার দেবদাস বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
আসামিরা হলেন, ফতেপুর গ্রামের কানাই দাসের ছেলে পরশ দাস, নির্মল দাসের ছেলে আশিক দাস এবং পাচু দাসের ছেলে সুজল দাস। অভিযোগ আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, তার মেয়ে বৈশাখী রানী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আসামিরা বিভিন্ন সময় তাকে উত্যক্ত করত এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করত। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিদের নিষেধ করা হলেও এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
গত ৮ এপ্রিল প্রতিদিনের মতো ওই শিক্ষার্থী সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর থেকে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, আসামিরা যশোর-নড়াইল সড়কের মাইলপোস্ট এলাকায় ওৎ পেতে ছিল। শিক্ষার্থীকে দেখে তারা জোরপূর্বক একটি ইজিবাইকে তুলে যশোর শহরের দিকে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে একটি সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিন আসামিকেই ডাকা হয়। এ সময় আশিক দাস জানান, মেয়েটি তাদের কাছেই রয়েছে। যদি পরশ দাসের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে। এক পর্যায়ে মেয়ের বাবা এতে রাজি হন। কিন্তু এরপর থেকে আসামিদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বাদীর ধারণা, বৈশাখীকে আসামিরা হত্যা করেছে অথবা অজ্ঞাত কোনো স্থানে আটকে রেখেছে। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেন।
এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ওইদিন ইউপি সদস্য কাইয়ুম হোসেনের মাধ্যমে সালিশের আয়োজন করা হয়। তার সামনেই আসামি মেয়েকে হাজির করতে রাজি হয়। ইউপি সদস্য নিজেই দায়িত্ব নেন। কিন্তু এরপর থেকে তার আচরণেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে
এ বিষয়ে মেম্বার কাইয়ুম জানান, তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আসামিরা একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন। শেষমষে তার সালিশ মানা হয়নি। বৈশাখী কোথায় সেটাও তিনি জানেন না বলে জানান।
-গ্রামের কাগজ
বিষয় : অপহরণ
.png)
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
যশোরে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা এবং জোর করে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর বাবা যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর দাসপাড়ার দেবদাস বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
আসামিরা হলেন, ফতেপুর গ্রামের কানাই দাসের ছেলে পরশ দাস, নির্মল দাসের ছেলে আশিক দাস এবং পাচু দাসের ছেলে সুজল দাস। অভিযোগ আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, তার মেয়ে বৈশাখী রানী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আসামিরা বিভিন্ন সময় তাকে উত্যক্ত করত এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করত। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিদের নিষেধ করা হলেও এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
গত ৮ এপ্রিল প্রতিদিনের মতো ওই শিক্ষার্থী সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর থেকে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, আসামিরা যশোর-নড়াইল সড়কের মাইলপোস্ট এলাকায় ওৎ পেতে ছিল। শিক্ষার্থীকে দেখে তারা জোরপূর্বক একটি ইজিবাইকে তুলে যশোর শহরের দিকে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে একটি সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিন আসামিকেই ডাকা হয়। এ সময় আশিক দাস জানান, মেয়েটি তাদের কাছেই রয়েছে। যদি পরশ দাসের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে। এক পর্যায়ে মেয়ের বাবা এতে রাজি হন। কিন্তু এরপর থেকে আসামিদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বাদীর ধারণা, বৈশাখীকে আসামিরা হত্যা করেছে অথবা অজ্ঞাত কোনো স্থানে আটকে রেখেছে। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেন।
এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ওইদিন ইউপি সদস্য কাইয়ুম হোসেনের মাধ্যমে সালিশের আয়োজন করা হয়। তার সামনেই আসামি মেয়েকে হাজির করতে রাজি হয়। ইউপি সদস্য নিজেই দায়িত্ব নেন। কিন্তু এরপর থেকে তার আচরণেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে
এ বিষয়ে মেম্বার কাইয়ুম জানান, তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আসামিরা একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন। শেষমষে তার সালিশ মানা হয়নি। বৈশাখী কোথায় সেটাও তিনি জানেন না বলে জানান।
-গ্রামের কাগজ
.png)
আপনার মতামত লিখুন