প্রতিবেদনঃ খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট।
সুদিন ফেরেনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাটের। পবিত্র ঈদুল আযহা পরবর্তী তিনহাটেও জমেনি রাজারহাটের চামড়া বাজার। এই সময়ের মধ্যে হাটে লক্ষাধিক গরুর চামড়া বেচাকেনার প্রত্যাশা থাকলেও আমদানি হয়েছে এক-তৃতীয়াংশ। শনিবারের বড়হাটে দাম কিছুটা বাড়লেও কথিত সিন্ডিকেটের কারণে কাঙ্ক্ষিত দাম মেলেনি; এমন অভিযোগ ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।
তাদের অভিযোগ, সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা কোনো কাজে আসছে না। বরং বড় ধরণের লোকসান গুনে মাথায় হাত উঠেছে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাট ঘুরে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে, প্রতিবছরের এই সংকটে চামড়া বাজারে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে দাবি উঠেছে, কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিতে হবে। তাহলে চামড়া বাজার চাঙ্গা হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই ট্যানারি মালিক, ঢাকার বড় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘কথিত সিন্ডিকেটের’ কারণে কোরবানি ঈদ পরবর্তী সময়ে চামড়ার ব্যাপক দর পতন হচ্ছে। এতে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবছর এই কথিত সিন্ডিকেটের সাথে নতুন কারসাজি হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘করোনা আর পক্স’! গরু লাম্পিস্কিন ডিজিজে আক্রান্ত ছিল দাবি করে ‘করোনা আর পক্স’ ট্যাগ লাগিয়ে বাতিল দেখিয়ে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। শনিবার কোরবানি ঈদ পরবর্তী সবচেয়ে বড়হাটেও কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে মাথায় হাত উঠেছে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
রাজারহাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ জানান, শনিবারের হাটে প্রায় ১৫-১৬ হাজার গরুর চামড়া ও কয়েক হাজার ছাগলের চামড়ার আমদানি হয়েছে। নতুন আমদানিকৃত বা আড়তদারদের সংরক্ষিত চামড়া মিলে এদিন প্রায় দুই কোটি টাকার চামড়া বেনাকেনা হয়েছে। তবে কাক্সিক্ষত দাম না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী হাটে চামড়া আনছেন না। ঈদ পরবর্তী এই সময়ের মধ্যে লক্ষাধিক চামড়া বেচাকেনা হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের মতো চামড়া হাটে এসেছে। বাজার বুঝে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া মজুদ করে রেখেছেন।
যশোরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট। ঢাকার পরে দেশের অন্যতম বৃহত্তর চামড়ার মোকাম এটি। এই মোকামে তিন শতাধিক আড়ৎ রয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। এখানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর এবং ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এই হাট ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট বড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, শনিবার রাজারহাটে সবচেয়ে বড় হাট বসে। ঈদের একদিন পরই শনিবার (৩০ মে) হওয়ায় সেদিন ঈদপরবর্তী প্রথম হাট বসলেও বাজার জমেনি। ৬ জুন শনিবার সবচেয়ে বড় হাট বসেছে। এদিন হাটে প্রায় ২০ হাজার গরুর চামড়া আমদানি হয়েছে। এদিন হাটে প্রথম হাটের তুলনায় দাম বাড়লেও কাক্সিক্ষত দাম পাননি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এদিন রাজারহাটে সবচেয়ে ভাল ও বড় আকারের চামড়া ৯শ’ থেকে ১২শ’ টাকা, মাঝারি চামড়া ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা এবং ছোট চামড়া ৪শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে কথিত করোনা আক্রান্ত (লাম্পিস্কিন) চামড়া সেই দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকাতেই বিক্রি হয়েছে। যদিও এদিনের হাটে এই চামড়ার পরিমাণ অনেক কম ছিল বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এদিন রাজারহাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পরিবহণে করে চামড়া এনে স্তুপ করে রেখেছেন। আবার স্থানীয় আড়তদাররা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্তুপ করা চামড়া উল্টে-পাল্টে দেখছেন। দাম নিয়ে চলছে দু’পক্ষের দর কষাকষি।
আড়তদারদের দামে হতাশা প্রকাশ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, শনিবারের হাটের তুলনায় এদিন (৬জুন) দাম কিছুটা বাড়লেও গড়ে চামড়াপ্রতি দুশ’ থেকে তিনশ’ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় কম দামে তারা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত ট্যানারি মালিক-আড়তদারদের সিন্ডিকেট এই চামড়ার দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে ১৭০ পিস গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসেছিলেন কবিরুল ইসলাম কবির। তিনি জানালেন, ৮৫০ টাকা করে একশ’ চামড়া বিক্রি করেছেন। প্রতিটি চামড়ায় দুশ’ থেকে তিনশ’ লোকসান হয়েছে। বাকী ৭০টি চামড়ার যে দাম বলছে তাতে বিক্রি করতে পারছেন না।
কবিরুল ইসলাম কবির জানান, আগে ঢাকার ট্যানারি বা বাইরের অনেক ব্যবসায়ী আসতেন এবং সরাসরি চামড়া কিনতেন। এখন বাইরের ব্যবসায়ীরা খুবই কম আসছেন। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে দাম চাপিয়ে রাখছেন। কারণ যারা চামড়া নিয়ে এসেছেন, তারা তো বিক্রি করেই যাবেন।
বাগেরহাট সদরের দিপাড়া গ্রাম থেকে ১০২ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন সাধন বিশ্বাস, তিনি জানালেন, ৭২ পিস চামড়া বিক্রি করেছি। ৮শ’ টাকা করে চামড়া বিক্রি করলেও লবণ এবং যাতায়াত খরচ ওঠেনি।
যশোরের অভয়নগর থেকে ২শ’ পিস চামড়া নিয়ে রাজারহাটে এসে ৭০ পিস বিক্রি করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অশোক দাস। জানালেন, ৫শ’ টাকায় কেনা চামড়ায় যাতায়াত-লবণ খরচ করে অর্ধেক সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বাকী চামড়ার দাম দেড়শ’-দুশো’ টাকা বলছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিক বা বড় ব্যবসায়ীরা এখন স্থানীয় বড় ব্যবসায়ী-আড়তদারদের কাছ থেকেই শুধু চামড়া কিনছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। সেখানে সরকারি দামের কোনো তোয়াক্কা নেই।
সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী রুস্তম ফকির ৭শ’ পিস চামড়া হাটে নিয়ে এসে দুপুর পর্যন্ত ৩শ’ পিস বিক্রি করেছেন। তিনি জানালেন, চামড়া কেনা, লবণ খরচ, যাতায়াত মিলে হাজার-বারোশো’ টাকা পড়ে যাওয়া চামড়া ৯শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ৭০টা চামড়ার দাম তো তিনশ’ টাকা বলছে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, রাজারহাটে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ‘কথিত সিন্ডিকেট’ ভাঙ্গতে হলে কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিতে হবে। তাহলে চামড়া বাজার চাঙ্গা হয়ে যাবে।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ আবুল কাশেম জানান, শনিবারের এই হাটে ৪শ’ থেকে শুরু করে ১২শ’ দরেও চামড়া বিক্রি হয়েছে। ভাল চামড়ার ভাল দাম মিলছে। তবে করোনা বা লাম্পিস্কিন বা নষ্ট চামড়ার দাম কম। তিনি প্রায় ৪শ‘ টাকা থেকে ৬শ’ টাকা দরে ৮শ’ চামড়া কিনেছেন। আরও ৫শ’ চামড়া কিনবেন বলে দরদাম করছেন।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ঈদ পরবর্তী দুই হাটের তুলনায় এদিন হাট কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিলে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
-গ্রামের কাগজ
বিষয় : চামড়ার মোকাম লোকসান
.png)
রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
প্রতিবেদনঃ খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট।
সুদিন ফেরেনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাটের। পবিত্র ঈদুল আযহা পরবর্তী তিনহাটেও জমেনি রাজারহাটের চামড়া বাজার। এই সময়ের মধ্যে হাটে লক্ষাধিক গরুর চামড়া বেচাকেনার প্রত্যাশা থাকলেও আমদানি হয়েছে এক-তৃতীয়াংশ। শনিবারের বড়হাটে দাম কিছুটা বাড়লেও কথিত সিন্ডিকেটের কারণে কাঙ্ক্ষিত দাম মেলেনি; এমন অভিযোগ ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের।
তাদের অভিযোগ, সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা কোনো কাজে আসছে না। বরং বড় ধরণের লোকসান গুনে মাথায় হাত উঠেছে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম রাজারহাট ঘুরে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে, প্রতিবছরের এই সংকটে চামড়া বাজারে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে দাবি উঠেছে, কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিতে হবে। তাহলে চামড়া বাজার চাঙ্গা হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই ট্যানারি মালিক, ঢাকার বড় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘কথিত সিন্ডিকেটের’ কারণে কোরবানি ঈদ পরবর্তী সময়ে চামড়ার ব্যাপক দর পতন হচ্ছে। এতে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবছর এই কথিত সিন্ডিকেটের সাথে নতুন কারসাজি হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘করোনা আর পক্স’! গরু লাম্পিস্কিন ডিজিজে আক্রান্ত ছিল দাবি করে ‘করোনা আর পক্স’ ট্যাগ লাগিয়ে বাতিল দেখিয়ে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া। শনিবার কোরবানি ঈদ পরবর্তী সবচেয়ে বড়হাটেও কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে মাথায় হাত উঠেছে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
রাজারহাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ জানান, শনিবারের হাটে প্রায় ১৫-১৬ হাজার গরুর চামড়া ও কয়েক হাজার ছাগলের চামড়ার আমদানি হয়েছে। নতুন আমদানিকৃত বা আড়তদারদের সংরক্ষিত চামড়া মিলে এদিন প্রায় দুই কোটি টাকার চামড়া বেনাকেনা হয়েছে। তবে কাক্সিক্ষত দাম না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী হাটে চামড়া আনছেন না। ঈদ পরবর্তী এই সময়ের মধ্যে লক্ষাধিক চামড়া বেচাকেনা হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৩৫ হাজারের মতো চামড়া হাটে এসেছে। বাজার বুঝে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া মজুদ করে রেখেছেন।
যশোরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা জানান, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট। ঢাকার পরে দেশের অন্যতম বৃহত্তর চামড়ার মোকাম এটি। এই মোকামে তিন শতাধিক আড়ৎ রয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে হাট বসে। এখানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর এবং ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এই হাট ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট বড় ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, শনিবার রাজারহাটে সবচেয়ে বড় হাট বসে। ঈদের একদিন পরই শনিবার (৩০ মে) হওয়ায় সেদিন ঈদপরবর্তী প্রথম হাট বসলেও বাজার জমেনি। ৬ জুন শনিবার সবচেয়ে বড় হাট বসেছে। এদিন হাটে প্রায় ২০ হাজার গরুর চামড়া আমদানি হয়েছে। এদিন হাটে প্রথম হাটের তুলনায় দাম বাড়লেও কাক্সিক্ষত দাম পাননি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এদিন রাজারহাটে সবচেয়ে ভাল ও বড় আকারের চামড়া ৯শ’ থেকে ১২শ’ টাকা, মাঝারি চামড়া ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা এবং ছোট চামড়া ৪শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে কথিত করোনা আক্রান্ত (লাম্পিস্কিন) চামড়া সেই দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকাতেই বিক্রি হয়েছে। যদিও এদিনের হাটে এই চামড়ার পরিমাণ অনেক কম ছিল বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এদিন রাজারহাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পরিবহণে করে চামড়া এনে স্তুপ করে রেখেছেন। আবার স্থানীয় আড়তদাররা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্তুপ করা চামড়া উল্টে-পাল্টে দেখছেন। দাম নিয়ে চলছে দু’পক্ষের দর কষাকষি।
আড়তদারদের দামে হতাশা প্রকাশ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, শনিবারের হাটের তুলনায় এদিন (৬জুন) দাম কিছুটা বাড়লেও গড়ে চামড়াপ্রতি দুশ’ থেকে তিনশ’ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় কম দামে তারা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত ট্যানারি মালিক-আড়তদারদের সিন্ডিকেট এই চামড়ার দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে ১৭০ পিস গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসেছিলেন কবিরুল ইসলাম কবির। তিনি জানালেন, ৮৫০ টাকা করে একশ’ চামড়া বিক্রি করেছেন। প্রতিটি চামড়ায় দুশ’ থেকে তিনশ’ লোকসান হয়েছে। বাকী ৭০টি চামড়ার যে দাম বলছে তাতে বিক্রি করতে পারছেন না।
কবিরুল ইসলাম কবির জানান, আগে ঢাকার ট্যানারি বা বাইরের অনেক ব্যবসায়ী আসতেন এবং সরাসরি চামড়া কিনতেন। এখন বাইরের ব্যবসায়ীরা খুবই কম আসছেন। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে দাম চাপিয়ে রাখছেন। কারণ যারা চামড়া নিয়ে এসেছেন, তারা তো বিক্রি করেই যাবেন।
বাগেরহাট সদরের দিপাড়া গ্রাম থেকে ১০২ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন সাধন বিশ্বাস, তিনি জানালেন, ৭২ পিস চামড়া বিক্রি করেছি। ৮শ’ টাকা করে চামড়া বিক্রি করলেও লবণ এবং যাতায়াত খরচ ওঠেনি।
যশোরের অভয়নগর থেকে ২শ’ পিস চামড়া নিয়ে রাজারহাটে এসে ৭০ পিস বিক্রি করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অশোক দাস। জানালেন, ৫শ’ টাকায় কেনা চামড়ায় যাতায়াত-লবণ খরচ করে অর্ধেক সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বাকী চামড়ার দাম দেড়শ’-দুশো’ টাকা বলছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তিনি অভিযোগ করেন, ট্যানারি মালিক বা বড় ব্যবসায়ীরা এখন স্থানীয় বড় ব্যবসায়ী-আড়তদারদের কাছ থেকেই শুধু চামড়া কিনছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। সেখানে সরকারি দামের কোনো তোয়াক্কা নেই।
সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী রুস্তম ফকির ৭শ’ পিস চামড়া হাটে নিয়ে এসে দুপুর পর্যন্ত ৩শ’ পিস বিক্রি করেছেন। তিনি জানালেন, চামড়া কেনা, লবণ খরচ, যাতায়াত মিলে হাজার-বারোশো’ টাকা পড়ে যাওয়া চামড়া ৯শ’ থেকে সাড়ে ৯শ’ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। ৭০টা চামড়ার দাম তো তিনশ’ টাকা বলছে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, রাজারহাটে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ‘কথিত সিন্ডিকেট’ ভাঙ্গতে হলে কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিতে হবে। তাহলে চামড়া বাজার চাঙ্গা হয়ে যাবে।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ আবুল কাশেম জানান, শনিবারের এই হাটে ৪শ’ থেকে শুরু করে ১২শ’ দরেও চামড়া বিক্রি হয়েছে। ভাল চামড়ার ভাল দাম মিলছে। তবে করোনা বা লাম্পিস্কিন বা নষ্ট চামড়ার দাম কম। তিনি প্রায় ৪শ‘ টাকা থেকে ৬শ’ টাকা দরে ৮শ’ চামড়া কিনেছেন। আরও ৫শ’ চামড়া কিনবেন বলে দরদাম করছেন।
বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ঈদ পরবর্তী দুই হাটের তুলনায় এদিন হাট কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে কাঁচা চামড়া বা ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিলে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
-গ্রামের কাগজ
.png)
আপনার মতামত লিখুন