আর মাত্র পাঁচ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দের এই উৎসবে একটু ভালো খাবারের আয়োজন করতে সবাই ছুটছেন নিত্যপণ্যের বাজারে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে ঈদের সেই অনাবিল আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে বাজারে এসে। সেমাই, চিনি, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে পোলাওর চাল, ঘি, মাংস ও মসলা—সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই এখন আকাশছোঁয়া। ফলে সাধারণ মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্যের মধ্যে উৎসবের কেনাকাটা সারতে হিমশিশ খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ। রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে সাধারণ মানুষের এমন নাভিশ্বাস ওঠার চিত্রই চোখে পড়ে।
খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের প্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে:
পোলাওর চাল ও ডাল: খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পোলাওর চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকা। প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় (আগে ছিল ১৫০ টাকা)।
চিনি ও মিষ্টিজাতীয় পণ্য: প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা আগে ছিল ১০০ টাকা। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে আলুবোখারা; দুই মাস আগের ৫০০ টাকা কেজির আলুবোখারা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়!
মসলাপাতি: খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ টাকায়, যা আগে ৪৩০০ টাকা ছিল। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ১২০০-১২৫০ টাকার মধ্যে ছিল।
সেমাই ও গুঁড়োদুধ: ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাইয়ের দাম ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকায়। চিকন সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ডানো গুঁড়োদুধ ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস গুঁড়োদুধ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের ঠিক মুখে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই অন্য মাংসে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকা এবং ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগি কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি ৭৩০-৭৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ৮০০ টাকায় ঠেকেছে, আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে ঈদের রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, রসুন ১৩০-২২০ টাকা, আদা ২৫০ টাকা এবং হলুদ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সবজির বাজারে। রাজধানীর বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। বাজারে করলা, পটোল, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ছুঁয়েছে ১০০ টাকার ঘর। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০ টাকা কেজিতে।
কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী মো. হেলাল আক্ষেপ করে বলেন:
"প্রতিবছরই রোজা কিংবা ঈদ ঘিরে বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে সব পণ্যের দাম বাড়ায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইচ্ছা থাকলেও আয়ের সাথে ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে উৎসবের কেনাকাটা অনেক কাটছাঁট করতে হচ্ছে।"
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, কুরবানির ঈদ ঘিরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা লোটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর বাজার মনিটরিং এবং আইন বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল জানান, ঈদকে সামনে রেখে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিদিন একাধিক টিম কাজ করছে এবং প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়েও কঠোর নজরদারি চলছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পেলেই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
.png)
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
আর মাত্র পাঁচ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দের এই উৎসবে একটু ভালো খাবারের আয়োজন করতে সবাই ছুটছেন নিত্যপণ্যের বাজারে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে ঈদের সেই অনাবিল আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে বাজারে এসে। সেমাই, চিনি, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে পোলাওর চাল, ঘি, মাংস ও মসলা—সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই এখন আকাশছোঁয়া। ফলে সাধারণ মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্যের মধ্যে উৎসবের কেনাকাটা সারতে হিমশিশ খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ। রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে সাধারণ মানুষের এমন নাভিশ্বাস ওঠার চিত্রই চোখে পড়ে।
খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের প্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে:
পোলাওর চাল ও ডাল: খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পোলাওর চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকা। প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭০ টাকায় (আগে ছিল ১৫০ টাকা)।
চিনি ও মিষ্টিজাতীয় পণ্য: প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা আগে ছিল ১০০ টাকা। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে আলুবোখারা; দুই মাস আগের ৫০০ টাকা কেজির আলুবোখারা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়!
মসলাপাতি: খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০০ টাকায়, যা আগে ৪৩০০ টাকা ছিল। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৪৫০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ১২০০-১২৫০ টাকার মধ্যে ছিল।
সেমাই ও গুঁড়োদুধ: ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাইয়ের দাম ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকায়। চিকন সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ডানো গুঁড়োদুধ ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস গুঁড়োদুধ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের ঠিক মুখে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তি নেই অন্য মাংসে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকা এবং ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগি কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি ৭৩০-৭৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ৮০০ টাকায় ঠেকেছে, আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে ঈদের রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, রসুন ১৩০-২২০ টাকা, আদা ২৫০ টাকা এবং হলুদ সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সবজির বাজারে। রাজধানীর বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। বাজারে করলা, পটোল, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ছুঁয়েছে ১০০ টাকার ঘর। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০ টাকা কেজিতে।
কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী মো. হেলাল আক্ষেপ করে বলেন:
"প্রতিবছরই রোজা কিংবা ঈদ ঘিরে বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে সব পণ্যের দাম বাড়ায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইচ্ছা থাকলেও আয়ের সাথে ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে উৎসবের কেনাকাটা অনেক কাটছাঁট করতে হচ্ছে।"
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, কুরবানির ঈদ ঘিরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা লোটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর বাজার মনিটরিং এবং আইন বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল জানান, ঈদকে সামনে রেখে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিদিন একাধিক টিম কাজ করছে এবং প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়েও কঠোর নজরদারি চলছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রমাণ পেলেই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন