পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে পেশোয়ার জালমি। পেশোয়ারের হয়ে এদিন বল হাতে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন টাইগার পেসার নাহিদ রানা। মাত্র ২২ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন রানা। প্রথমে ব্যাট করা হায়দরাবাদ কিংসকে ১২৯ রানে অলআউট করার পর ২৯ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পেশেয়ার। আর তাতেই ৯ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। অধিনায়ক বাবরের নেতৃত্বে এটাই প্রথম পিএসএলের শিরোপা জয়ের নজির।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এদিন টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল হায়দরাবাদ। ওপেনার মাজ সাদাকাত এবং অধিনায়ক মারনাস লাবুশেন মিলে ওপেনিং জুটিতে তোলেন ১৬ রান। ৬ বলে ১১ রান করে বিদায় নেন মাজ। আরেক ওপেনার লাবুশেন সাজঘরে ফিরে যান দলের ৫১ রানের মাথাতে। ১২ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক।
ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন নাহিদ রানা। সেই ওভারে উইকেট পাননি তিনি। দিয়েছেন ১৩ রান। তবুও অধিনায়ক বাবর আজম বারবার আস্থা রেখেছেন রানার উপর। ৮ম ওভারে আবারও বল হাতে নেন রানা। এবার দিয়েছেন মাত্র ৫ রান। সাথে নিয়েছেন উইকেট। সাজঘরে পাঠিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে, অজি তারকা মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। সেই একই ওভারে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান কুশল পেরেরা। নাহিদ রানা তাকে বাধা দিয়েছেন দাবি করলেও সেই দাবি পাত্তা পায়নি, আউটই হয়েছেন পেরেরা।
১৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরলেন রানা। এবার যেন আরও বেশি অনবদ্য। উইকেট মেইডেন ওভারে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন হুনাইন শাহকে। ৩ ওভারে ১৮ রান খরচায় উইকেট নেন ২টি।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা সাইম আইয়ুব তুলে ফেলেন ফিফটি। বাকিরা কেউ আহামরি রান পাননি। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফেরেন রানা। ওভারের প্রথম বলেই সাইমকে এলবিডব্লিউ করেছিলেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান সাইম। সেই ওভারে ৪ রান দেন রানা। উইকেট মেলেনি। ৪ ওভারে ১ মেইডেনের সাথে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নিজের বোলিং কোটা শেষ করেন রানা।
১৮ ওভারে ১২৯ রান তুলে অলআউট হয়েছে হায়দরাবাদ কিংসমেন। শেষের আগের ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়া সাইম খেলেছেন ৫০ বলে ৫৪ রানের ইনিংস।
পেশোয়ারের হয়ে ৪ উইকেট নেন অ্যারন হার্ডি। ২ উইকেট তোলেন নাহিদ রানা। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ বাসিত এবং সুফিয়ান মুকীম।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়েছে পেশোয়ার জালমি। ৩ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ হারিস। অধিনায়ক বাবর আজম ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক মেরে।
তিনে নামা কুশল মেন্ডিস এবং চারে নামা অ্যারন হার্ডি দলের হাল ধরেন। কুশল বেশিক্ষণ টেকেননি যদিও। হার্ডি চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। ৮ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন কুশল। পাঁচে নামা মাইকেল ব্রেসওয়েল ৫ বলে ৪ রান করেছেন। ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পেশোয়ার। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তোলে পেশোয়ার।
হার্ডির সাথে জুটি বাঁধেন আবদুল সামাদ। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে পেশোয়ারের ব্যাটিং। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন হার্ডি-সামাদ। রান বের করেছেন দারুণ সব শটে। হার্ডি তুলে নেন ফিফটি। পেশোয়ারের ইনিংস পায় স্থিরতা।
শেষ দিকে এই দুইজনের ব্যাটে ভর করেই জয়ের খুব কাছে চলে যায় পেশোয়ার জালমি। একদম শেষ দিকে গিয়ে সামাদ আউট হয়েছেন। ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান আবদুল সামাদ। শেষ দিকে ফারহান ইউসুফের চারে জয় পেয়েছে পেশোয়ার। ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয়লাভ করেছে পেশোয়ার জালমি, ঘরে তুলেছে পিএসএলের শিরোপা। হায়দরাবাদের হয়ে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ আলী। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আকিফ জাভেদ এবং হুনাইন শাহ।
.png)
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে পেশোয়ার জালমি। পেশোয়ারের হয়ে এদিন বল হাতে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন টাইগার পেসার নাহিদ রানা। মাত্র ২২ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন রানা। প্রথমে ব্যাট করা হায়দরাবাদ কিংসকে ১২৯ রানে অলআউট করার পর ২৯ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পেশেয়ার। আর তাতেই ৯ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। অধিনায়ক বাবরের নেতৃত্বে এটাই প্রথম পিএসএলের শিরোপা জয়ের নজির।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এদিন টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল হায়দরাবাদ। ওপেনার মাজ সাদাকাত এবং অধিনায়ক মারনাস লাবুশেন মিলে ওপেনিং জুটিতে তোলেন ১৬ রান। ৬ বলে ১১ রান করে বিদায় নেন মাজ। আরেক ওপেনার লাবুশেন সাজঘরে ফিরে যান দলের ৫১ রানের মাথাতে। ১২ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক।
ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন নাহিদ রানা। সেই ওভারে উইকেট পাননি তিনি। দিয়েছেন ১৩ রান। তবুও অধিনায়ক বাবর আজম বারবার আস্থা রেখেছেন রানার উপর। ৮ম ওভারে আবারও বল হাতে নেন রানা। এবার দিয়েছেন মাত্র ৫ রান। সাথে নিয়েছেন উইকেট। সাজঘরে পাঠিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে, অজি তারকা মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। সেই একই ওভারে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান কুশল পেরেরা। নাহিদ রানা তাকে বাধা দিয়েছেন দাবি করলেও সেই দাবি পাত্তা পায়নি, আউটই হয়েছেন পেরেরা।
১৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরলেন রানা। এবার যেন আরও বেশি অনবদ্য। উইকেট মেইডেন ওভারে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন হুনাইন শাহকে। ৩ ওভারে ১৮ রান খরচায় উইকেট নেন ২টি।
এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা সাইম আইয়ুব তুলে ফেলেন ফিফটি। বাকিরা কেউ আহামরি রান পাননি। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফেরেন রানা। ওভারের প্রথম বলেই সাইমকে এলবিডব্লিউ করেছিলেন। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান সাইম। সেই ওভারে ৪ রান দেন রানা। উইকেট মেলেনি। ৪ ওভারে ১ মেইডেনের সাথে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নিজের বোলিং কোটা শেষ করেন রানা।
১৮ ওভারে ১২৯ রান তুলে অলআউট হয়েছে হায়দরাবাদ কিংসমেন। শেষের আগের ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়া সাইম খেলেছেন ৫০ বলে ৫৪ রানের ইনিংস।
পেশোয়ারের হয়ে ৪ উইকেট নেন অ্যারন হার্ডি। ২ উইকেট তোলেন নাহিদ রানা। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ বাসিত এবং সুফিয়ান মুকীম।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারের উইকেট হারিয়েছে পেশোয়ার জালমি। ৩ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মোহাম্মদ হারিস। অধিনায়ক বাবর আজম ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক মেরে।
তিনে নামা কুশল মেন্ডিস এবং চারে নামা অ্যারন হার্ডি দলের হাল ধরেন। কুশল বেশিক্ষণ টেকেননি যদিও। হার্ডি চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। ৮ বলে ৯ রান করে বিদায় নেন কুশল। পাঁচে নামা মাইকেল ব্রেসওয়েল ৫ বলে ৪ রান করেছেন। ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পেশোয়ার। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তোলে পেশোয়ার।
হার্ডির সাথে জুটি বাঁধেন আবদুল সামাদ। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে পেশোয়ারের ব্যাটিং। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন হার্ডি-সামাদ। রান বের করেছেন দারুণ সব শটে। হার্ডি তুলে নেন ফিফটি। পেশোয়ারের ইনিংস পায় স্থিরতা।
শেষ দিকে এই দুইজনের ব্যাটে ভর করেই জয়ের খুব কাছে চলে যায় পেশোয়ার জালমি। একদম শেষ দিকে গিয়ে সামাদ আউট হয়েছেন। ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান আবদুল সামাদ। শেষ দিকে ফারহান ইউসুফের চারে জয় পেয়েছে পেশোয়ার। ২৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয়লাভ করেছে পেশোয়ার জালমি, ঘরে তুলেছে পিএসএলের শিরোপা। হায়দরাবাদের হয়ে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ আলী। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আকিফ জাভেদ এবং হুনাইন শাহ।
.png)
আপনার মতামত লিখুন