একজন মানুষের পরিচয় কেবল তার নাম বা অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে থাকে এক দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। আন্তর্জাতিক মা দিবসে নিজের জীবনের সেই ছায়ারূপী কারিগরকে নিয়ে মোহনা বলেন, ‘আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি আমার মা- আনজুয়ারা হাসান আন্না। আজ আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, নিজেকে একজন প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলেছি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি; কিন্তু এই বন্ধুর পথচলার প্রতিটি বাঁকে আমার মা ছিলেন এক উজ্জ্বল বাতিঘর।’
মোহনার বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তার মা ছিলেন এক অক্লান্ত লড়াকু ব্যক্তিত্ব। শৈশব থেকেই মোহনা দেখেছেন কীভাবে তার মা কর্মজীবন ও সংসার—দুই নৌকায় সমানভাবে পা দিয়ে সাফল্যের সাথে পথ চলেছেন। ব্র্যাক স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ানো থেকে শুরু করে একজন স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন, এবং বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এসিআই (ACI)-তে উচ্চপদে আসীন হওয়া মায়ের এই অবিরাম ছুটে চলাই মোহনাকে শিখিয়েছে প্রতিকূলতায় থেমে না থাকার মন্ত্র।
'মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫'-এর মুকুট যখন মোহনার মাথায় শোভা পাচ্ছিল, তখন সেই গৌরবময় মুহূর্তের সবটুকু কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেছিলেন তার মাকে। মোহনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, "মা সবসময় বলতেন, 'মানুষ কী বলল তাতে কান দিও না, নিজেকে কাজে মগ্ন রাখো। প্রতিযোগিতায় হার-জিত বড় কথা নয়, অংশগ্রহণটাই আসল।' মায়ের এই ছোট ছোট অনুপ্রেরণামূলক বাণীই আমাকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।"
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে মোহনা এখন নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ার স্বপ্নে বিভোর। তবে তার এই স্বপ্ন কেবল নিজের ক্যারিয়ারের জন্য নয়; বরং তার মূল লক্ষ্য দেশের নারীদের ক্ষমতায়ন ও অসহায় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মোহনার ভাষায়, "মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমি মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি। মা আমাকে শিখিয়েছেন, নিজের শক্তির প্রকৃত ব্যবহার তখনই হয় যখন তা অন্যের উপকারে আসে।"
আজকের নিলিমা হাসান মোহনা সামাজিক ও মানবিক যে কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত, তার শেকড় প্রোথিত আছে মায়ের আদর্শে। মোহনার কাছে তার মা কেবল একজন জন্মদাত্রী নন, বরং তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ মেন্টর ও পরম আশ্রয়ের নাম।
মা দিবসের এই বিশেষ ক্ষণে মোহনা গর্বের সাথে জানান, ‘আমার প্রতিটি অর্জনে মায়ের প্রার্থনা মিশে আছে। তিনি আমার ছায়া, আমার সাহস। মায়ের দেখানো পথ ধরেই আমি আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখতে চাই।’
বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে মোহনা তার মায়ের জন্য চেয়েছেন অন্তহীন ভালোবাসা ও দোয়া।
.png)
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
একজন মানুষের পরিচয় কেবল তার নাম বা অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে থাকে এক দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। আন্তর্জাতিক মা দিবসে নিজের জীবনের সেই ছায়ারূপী কারিগরকে নিয়ে মোহনা বলেন, ‘আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি আমার মা- আনজুয়ারা হাসান আন্না। আজ আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, নিজেকে একজন প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলেছি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি; কিন্তু এই বন্ধুর পথচলার প্রতিটি বাঁকে আমার মা ছিলেন এক উজ্জ্বল বাতিঘর।’
মোহনার বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে তার মা ছিলেন এক অক্লান্ত লড়াকু ব্যক্তিত্ব। শৈশব থেকেই মোহনা দেখেছেন কীভাবে তার মা কর্মজীবন ও সংসার—দুই নৌকায় সমানভাবে পা দিয়ে সাফল্যের সাথে পথ চলেছেন। ব্র্যাক স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ানো থেকে শুরু করে একজন স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন, এবং বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এসিআই (ACI)-তে উচ্চপদে আসীন হওয়া মায়ের এই অবিরাম ছুটে চলাই মোহনাকে শিখিয়েছে প্রতিকূলতায় থেমে না থাকার মন্ত্র।
'মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫'-এর মুকুট যখন মোহনার মাথায় শোভা পাচ্ছিল, তখন সেই গৌরবময় মুহূর্তের সবটুকু কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেছিলেন তার মাকে। মোহনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, "মা সবসময় বলতেন, 'মানুষ কী বলল তাতে কান দিও না, নিজেকে কাজে মগ্ন রাখো। প্রতিযোগিতায় হার-জিত বড় কথা নয়, অংশগ্রহণটাই আসল।' মায়ের এই ছোট ছোট অনুপ্রেরণামূলক বাণীই আমাকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।"
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে মোহনা এখন নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ার স্বপ্নে বিভোর। তবে তার এই স্বপ্ন কেবল নিজের ক্যারিয়ারের জন্য নয়; বরং তার মূল লক্ষ্য দেশের নারীদের ক্ষমতায়ন ও অসহায় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মোহনার ভাষায়, "মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমি মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি। মা আমাকে শিখিয়েছেন, নিজের শক্তির প্রকৃত ব্যবহার তখনই হয় যখন তা অন্যের উপকারে আসে।"
আজকের নিলিমা হাসান মোহনা সামাজিক ও মানবিক যে কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত, তার শেকড় প্রোথিত আছে মায়ের আদর্শে। মোহনার কাছে তার মা কেবল একজন জন্মদাত্রী নন, বরং তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠ মেন্টর ও পরম আশ্রয়ের নাম।
মা দিবসের এই বিশেষ ক্ষণে মোহনা গর্বের সাথে জানান, ‘আমার প্রতিটি অর্জনে মায়ের প্রার্থনা মিশে আছে। তিনি আমার ছায়া, আমার সাহস। মায়ের দেখানো পথ ধরেই আমি আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখতে চাই।’
বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে মোহনা তার মায়ের জন্য চেয়েছেন অন্তহীন ভালোবাসা ও দোয়া।
.png)
আপনার মতামত লিখুন