ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন গভীর জ্বালানি রূপান্তর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যা দেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এ কারণে বিচ্ছিন্ন আলোচনা নয়, বরং সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে জ্বালানি খাত নিয়ে চলমান আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় সময় বলে মনে করছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তা দূর করে সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলা এখন জরুরি।
আজ শনিবার (৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) বোর্ডরুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে জ্বালানির ভবিষ্যৎ: নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিষয়টি শুধু জ্বালানি সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশ এখন গভীর জ্বালানি রূপান্তর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যা দেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এ কারণে বিচ্ছিন্ন আলোচনা নয়, বরং সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুতের দাম বা ব্যয়ের বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই এখন বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খরচ বেশি হলেও পূর্বানুমান থাকলে অর্থনীতি টিকে থাকতে পারে। কিন্তু অনিশ্চয়তা থাকলে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হয় না। এ অনিশ্চয়তা কমাতে জ্বালানির উৎসের ভারসাম্য, সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর, কয়লা ব্যবস্থাপনা, গ্যাস অনুসন্ধান, পরিশোধন সক্ষমতা এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার কথা বলেন তিনি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টা পূর্বাচল ও পূর্ব ঢাকা উন্নয়ন পরিকল্পনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অর্থনীতির কারণে অনেক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। তার মতে, দেশে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। পরিকল্পনা তৈরি হলেও তা পর্যবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিক তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ সূচক ও ধারাবাহিক নজরদারি ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরো বলেন, এ ঘাটতি দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন প্রয়োজন। এ প্ল্যাটফর্ম জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে ও সরকারকে নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে একত্র হয়ে শক্তিশালী সমন্বিত মতামত গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এখন একটি জটিল রূপান্তর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রাথমিক জ্বালানির বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। আমদানিনির্ভরতা বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চ ও অস্থির দাম, ডিজেলের দাম শতভাগের বেশি বৃদ্ধি এবং কয়লার দাম বাড়ায় পুরো জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন কমে ৯৭৮ বিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শফিকুল আলম আরো বলেন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮ শতাংশ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এর বড় অংশ সাশ্রয় সম্ভব। তিনি মনে করেন, জ্বালানি রূপান্তর, বিকেন্দ্রীকৃত সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। মূল আলোচনার ওপর বক্তব্য দেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উপদেষ্টা সিদ্দিক জোবায়ের এবং বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের সদস্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
.png)
রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন গভীর জ্বালানি রূপান্তর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যা দেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এ কারণে বিচ্ছিন্ন আলোচনা নয়, বরং সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে জ্বালানি খাত নিয়ে চলমান আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় সময় বলে মনে করছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাত ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তা দূর করে সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলা এখন জরুরি।
আজ শনিবার (৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) বোর্ডরুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে জ্বালানির ভবিষ্যৎ: নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিষয়টি শুধু জ্বালানি সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশ এখন গভীর জ্বালানি রূপান্তর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যা দেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। এ কারণে বিচ্ছিন্ন আলোচনা নয়, বরং সমন্বিত নীতি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুতের দাম বা ব্যয়ের বিষয় নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই এখন বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খরচ বেশি হলেও পূর্বানুমান থাকলে অর্থনীতি টিকে থাকতে পারে। কিন্তু অনিশ্চয়তা থাকলে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হয় না। এ অনিশ্চয়তা কমাতে জ্বালানির উৎসের ভারসাম্য, সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর, কয়লা ব্যবস্থাপনা, গ্যাস অনুসন্ধান, পরিশোধন সক্ষমতা এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার কথা বলেন তিনি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টা পূর্বাচল ও পূর্ব ঢাকা উন্নয়ন পরিকল্পনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অর্থনীতির কারণে অনেক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। তার মতে, দেশে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। পরিকল্পনা তৈরি হলেও তা পর্যবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিক তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ সূচক ও ধারাবাহিক নজরদারি ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরো বলেন, এ ঘাটতি দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন প্রয়োজন। এ প্ল্যাটফর্ম জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে ও সরকারকে নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে একত্র হয়ে শক্তিশালী সমন্বিত মতামত গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এখন একটি জটিল রূপান্তর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রাথমিক জ্বালানির বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৩৮ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। আমদানিনির্ভরতা বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উচ্চ ও অস্থির দাম, ডিজেলের দাম শতভাগের বেশি বৃদ্ধি এবং কয়লার দাম বাড়ায় পুরো জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন কমে ৯৭৮ বিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শফিকুল আলম আরো বলেন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮ শতাংশ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এর বড় অংশ সাশ্রয় সম্ভব। তিনি মনে করেন, জ্বালানি রূপান্তর, বিকেন্দ্রীকৃত সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। মূল আলোচনার ওপর বক্তব্য দেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ও গ্রিনটেক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উপদেষ্টা সিদ্দিক জোবায়ের এবং বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের সদস্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন