গুলজার আহম্মেদ জানান, শরীরিক বৃদ্ধি ছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মেধা বিকাশের জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন ও মিনারেল) অপরিহার্য। আমাদের দেশে দারিদ্র্য ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে সবাই সুষম খাবার খেতে পারে না। যেহেতু ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য, তাই চালের মাধ্যমে এই পুষ্টি পৌঁছে দেওয়াটা সবথেকে সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান।
অনেকের ধারণা চাল পলিশ করার কারণেই ফর্টিফিকেশন প্রয়োজন হয়। একে ভুল ধারণা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা ফর্টিফিকেশনের মাধ্যমে বিএসটিআই নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ৬টি সুনির্দিষ্ট মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন এ, বি১, বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিংক) যোগ করছি, যা জনস্বাস্থ্যের সামগ্রিক ঘাটতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।"
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে মাটির ওপরের স্তরের মিনারেল ধুয়ে যায়। ফলে মাটিতে জিংক বা আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ওই মাটিতে ফলানো ধানেও স্বাভাবিকভাবেই এই পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে না। একারণেই খাবারে আলাদাভাবে পুষ্টি মেশানো বা ফর্টিফিকেশন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি। সাধারণ চালের গুঁড়োর সাথে নির্দিষ্ট ৬টি ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে ‘ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল’ তৈরি করা হয়। এরপর ১০০ কেজি সাধারণ চালের সাথে ১ কেজি কার্নেল মিশিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। রান্না করার পর এর স্বাদ, গন্ধ বা চেহারায় সাধারণ চালের সাথে কোনো পার্থক্য থাকে না।
শুরুতে কেউ কেউ একে ‘প্লাস্টিকের চাল’ মনে করলেও বর্তমানে সচেতনতা বেড়েছে। গুলজার আহম্মেদ জানান, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রচারণায় এখন মানুষ বুঝতে পারছে যে এটি তাদের ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী।
বর্তমানে সরকারিভাবে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ এবং ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি পরিবার এই চাল পাচ্ছে। এছাড়া কিছু বেসরকারি কোম্পানি বাজারে প্যাকেটজাত পুষ্টি চাল বিক্রি করছে। ভবিষ্যতে সরকার যদি এটি বাধ্যতামূলক করে বা সামাজিক কর্মসূচির আওতা বাড়ায়, তবে অপুষ্টি দূরীকরণে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যসূত্র: কালবেলা ও টেকনোসার্ভ
.png)
রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
গুলজার আহম্মেদ জানান, শরীরিক বৃদ্ধি ছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মেধা বিকাশের জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন ও মিনারেল) অপরিহার্য। আমাদের দেশে দারিদ্র্য ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে সবাই সুষম খাবার খেতে পারে না। যেহেতু ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য, তাই চালের মাধ্যমে এই পুষ্টি পৌঁছে দেওয়াটা সবথেকে সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান।
অনেকের ধারণা চাল পলিশ করার কারণেই ফর্টিফিকেশন প্রয়োজন হয়। একে ভুল ধারণা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা ফর্টিফিকেশনের মাধ্যমে বিএসটিআই নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ৬টি সুনির্দিষ্ট মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন এ, বি১, বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিংক) যোগ করছি, যা জনস্বাস্থ্যের সামগ্রিক ঘাটতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।"
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে মাটির ওপরের স্তরের মিনারেল ধুয়ে যায়। ফলে মাটিতে জিংক বা আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ওই মাটিতে ফলানো ধানেও স্বাভাবিকভাবেই এই পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে না। একারণেই খাবারে আলাদাভাবে পুষ্টি মেশানো বা ফর্টিফিকেশন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি। সাধারণ চালের গুঁড়োর সাথে নির্দিষ্ট ৬টি ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে ‘ফর্টিফাইড রাইস কার্নেল’ তৈরি করা হয়। এরপর ১০০ কেজি সাধারণ চালের সাথে ১ কেজি কার্নেল মিশিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। রান্না করার পর এর স্বাদ, গন্ধ বা চেহারায় সাধারণ চালের সাথে কোনো পার্থক্য থাকে না।
শুরুতে কেউ কেউ একে ‘প্লাস্টিকের চাল’ মনে করলেও বর্তমানে সচেতনতা বেড়েছে। গুলজার আহম্মেদ জানান, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রচারণায় এখন মানুষ বুঝতে পারছে যে এটি তাদের ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী।
বর্তমানে সরকারিভাবে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ এবং ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি পরিবার এই চাল পাচ্ছে। এছাড়া কিছু বেসরকারি কোম্পানি বাজারে প্যাকেটজাত পুষ্টি চাল বিক্রি করছে। ভবিষ্যতে সরকার যদি এটি বাধ্যতামূলক করে বা সামাজিক কর্মসূচির আওতা বাড়ায়, তবে অপুষ্টি দূরীকরণে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যসূত্র: কালবেলা ও টেকনোসার্ভ
.png)
আপনার মতামত লিখুন