দেশজুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা, মব জাস্টিস, কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে।
প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও খুন, অপহরণ, গুম, ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে যা বড় হেডলাইনে প্রকাশিত হচ্ছে খবরের পাতায়। এসব ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠছে দেশে কি সহিংসতা নতুন এক ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে? রাষ্ট্রের প্রশাসনের ভূমিকা কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট, অর্থনৈতিক চাপ, মাদক বিস্তার সহ রাজনৈতিক হত্যাকান্ড এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির সবকিছুর সম্মিলিত ফল এই বাড়তি সহিংসতা।
মানবাধিকার সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্যমতে, শুধু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৬ জন, মব সহিংসতায় ২২ জন এবং পারিবারিক সহিংসতায় নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন ২৯৪ জন।
জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন, মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৫৭টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই হত্যার সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংখ্যা শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত; অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না, যা তালিকার বাইরে থেকে যায়।
সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নারী ও তিন শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে পারিবারিক বিরোধের বিষয়।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে এক যুবককে হত্যা করা হয়; আহত হয় ১১ বছরের এক শিশু।
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার এবং খাগড়াছড়িতে স্বামীর হাতে গৃহবধূ খুনের ঘটনা পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে যার মধ্য প্রধান কারন বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধের পর দ্রুত বিচার না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যাচ্ছে। মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে। অনেক হত্যাকান্ডে তো আসামি থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
দেশে আগে পারিবারিক দ্বন্দ্ব সামাজিকভাবে মীমাংসা হতো। এখন সামান্য কলহও হত্যায় গড়াচ্ছে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার যেমনমদ, ইয়াবা, আইস, গাঁজা এবং অনলাইন ক্যাসিনো তরুণ সমাজকে সহিংস করে তুলছে। অর্থসংক্রান্ত বিরোধে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড।
কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রের সহজলভ্যতায় শহর ও মফস্বলে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। অল্প বয়সেই তারা অস্ত্র ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব হঠাৎ উত্তেজনা, গুজব, অপমানবোধ এবং অনলাইন দ্বন্দ্ব অনেক সময় বাস্তব সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও হতাশা বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা মানুষের সহনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত বাড়ানো হয়েছে, সিসিটিভি বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তবে বাস্তবতা বলছে, সাধারণ মানুষের বড় অভিযোগ-অপরাধ ঘটার পর প্রশাসন সক্রিয় হলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল কিংবা একেবারেই নেই।
অনেকের অভিযোগ রয়েছে,
* থানায় মামলা নিতে অনীহা
* রাজনৈতিক প্রভাব
* স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল গোয়েন্দা তৎপরতা
* অপরাধীদের দ্রুত জামিন পাওয়া
* সাক্ষী সুরক্ষার অভাব
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, “প্রতিরোধমূলক পুলিশিং” এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
চোর সন্দেহে, ছেলেধরা সন্দেহে কিংবা গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বাড়ছে। এটি আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মানুষ বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারায়, তখন তারা নিজেরাই বিচার করতে চায়-যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত।
পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং যৌন সহিংসতার কারণে নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা বাড়ছে।
শিশু অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ওপর নির্যাতন পরিবার থেকেই শুরু হচ্ছে, যা ভয়াবহ সামাজিক সংকট।
জনগণের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক রাজধানী থেকে গ্রাম-সব জায়গাতেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে। রাতে একা বের হতে ভয়, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উদ্বেগ, এমনকি পরিবারের ভেতরেও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে শঙ্কা-এই মানসিক চাপ সমাজে নতুন সংকট তৈরি করছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক বিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি যার মধ্য প্রথমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা
হত্যা ও সহিংসতার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। স্থানীয়ভাবে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক বাড়াতে হবে। মাদক সিন্ডিকেট ও অস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। এমন কি শুধু অভিযান নয়, পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংও প্রয়োজন।
আগের মত করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা দরকার! স্কুল পর্যায় থেকে সহনশীলতা, নৈতিকতা ও মানবিক শিক্ষা বাড়াতে হবে। সিসিটিভি, ডাটাবেজ ও স্মার্ট পুলিশিং সম্প্রসারণ জরুরি।
আবেদন করতে আবেদন করুনে ক্লিক করুন
খুন-খারাবি শুধু অপরাধের সংখ্যা বাড়ার বিষয় নয়; এটি সমাজের ভেতরে জমে থাকা অস্থিরতা, ক্ষোভ ও ভাঙনের প্রতিচ্ছবি।
রাষ্ট্র যদি দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ না নেয়, তবে এই সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন- “আমরা কি সত্যিই নিরাপদ?” এই প্রশ্নের উত্তর এখন রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং সমাজ - সবারই দিতে হবে।
বিষয় : হত্যাকান্ড বিচারহীনতা
.png)
রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দেশজুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা, মব জাস্টিস, কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে।
প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও খুন, অপহরণ, গুম, ধর্ষণের পর হত্যা কিংবা প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে যা বড় হেডলাইনে প্রকাশিত হচ্ছে খবরের পাতায়। এসব ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠছে দেশে কি সহিংসতা নতুন এক ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে? রাষ্ট্রের প্রশাসনের ভূমিকা কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট, অর্থনৈতিক চাপ, মাদক বিস্তার সহ রাজনৈতিক হত্যাকান্ড এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির সবকিছুর সম্মিলিত ফল এই বাড়তি সহিংসতা।
মানবাধিকার সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্যমতে, শুধু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৬ জন, মব সহিংসতায় ২২ জন এবং পারিবারিক সহিংসতায় নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন ২৯৪ জন।
জানুয়ারি থেকে মার্চ-এই তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন, মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৫৭টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই হত্যার সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংখ্যা শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত; অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না, যা তালিকার বাইরে থেকে যায়।
সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নারী ও তিন শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে পারিবারিক বিরোধের বিষয়।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে এক যুবককে হত্যা করা হয়; আহত হয় ১১ বছরের এক শিশু।
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার এবং খাগড়াছড়িতে স্বামীর হাতে গৃহবধূ খুনের ঘটনা পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে যার মধ্য প্রধান কারন বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধের পর দ্রুত বিচার না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যাচ্ছে। মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে। অনেক হত্যাকান্ডে তো আসামি থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
দেশে আগে পারিবারিক দ্বন্দ্ব সামাজিকভাবে মীমাংসা হতো। এখন সামান্য কলহও হত্যায় গড়াচ্ছে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার যেমনমদ, ইয়াবা, আইস, গাঁজা এবং অনলাইন ক্যাসিনো তরুণ সমাজকে সহিংস করে তুলছে। অর্থসংক্রান্ত বিরোধে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড।
কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রের সহজলভ্যতায় শহর ও মফস্বলে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। অল্প বয়সেই তারা অস্ত্র ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব হঠাৎ উত্তেজনা, গুজব, অপমানবোধ এবং অনলাইন দ্বন্দ্ব অনেক সময় বাস্তব সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও হতাশা বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা মানুষের সহনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত বাড়ানো হয়েছে, সিসিটিভি বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তবে বাস্তবতা বলছে, সাধারণ মানুষের বড় অভিযোগ-অপরাধ ঘটার পর প্রশাসন সক্রিয় হলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল কিংবা একেবারেই নেই।
অনেকের অভিযোগ রয়েছে,
* থানায় মামলা নিতে অনীহা
* রাজনৈতিক প্রভাব
* স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল গোয়েন্দা তৎপরতা
* অপরাধীদের দ্রুত জামিন পাওয়া
* সাক্ষী সুরক্ষার অভাব
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, “প্রতিরোধমূলক পুলিশিং” এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
চোর সন্দেহে, ছেলেধরা সন্দেহে কিংবা গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বাড়ছে। এটি আইনের শাসনের জন্য বড় হুমকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মানুষ বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারায়, তখন তারা নিজেরাই বিচার করতে চায়-যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত।
পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুক, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং যৌন সহিংসতার কারণে নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা বাড়ছে।
শিশু অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের ওপর নির্যাতন পরিবার থেকেই শুরু হচ্ছে, যা ভয়াবহ সামাজিক সংকট।
জনগণের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক রাজধানী থেকে গ্রাম-সব জায়গাতেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে। রাতে একা বের হতে ভয়, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উদ্বেগ, এমনকি পরিবারের ভেতরেও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে শঙ্কা-এই মানসিক চাপ সমাজে নতুন সংকট তৈরি করছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক বিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি যার মধ্য প্রথমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা
হত্যা ও সহিংসতার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। স্থানীয়ভাবে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক বাড়াতে হবে। মাদক সিন্ডিকেট ও অস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। এমন কি শুধু অভিযান নয়, পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিংও প্রয়োজন।
আগের মত করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা দরকার! স্কুল পর্যায় থেকে সহনশীলতা, নৈতিকতা ও মানবিক শিক্ষা বাড়াতে হবে। সিসিটিভি, ডাটাবেজ ও স্মার্ট পুলিশিং সম্প্রসারণ জরুরি।
আবেদন করতে আবেদন করুনে ক্লিক করুন
খুন-খারাবি শুধু অপরাধের সংখ্যা বাড়ার বিষয় নয়; এটি সমাজের ভেতরে জমে থাকা অস্থিরতা, ক্ষোভ ও ভাঙনের প্রতিচ্ছবি।
রাষ্ট্র যদি দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ না নেয়, তবে এই সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন- “আমরা কি সত্যিই নিরাপদ?” এই প্রশ্নের উত্তর এখন রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং সমাজ - সবারই দিতে হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন