যশোরের চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া কড়াইতলা বাজারে (ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে) মামুন কবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁতের ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত স্বীকৃত কোন ডিগ্রি বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যশোরের চৌগাছা থানাধীন কয়ারপাড়া বাজার মোড়ে মামুন ডেন্টাল কেয়ার নামে একটি দন্ত চিকিৎসালয় খুলে মামুন কবির নামে এক ব্যক্তি নিজেকে দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসক মামুন কবির জাহিদ রানা নামে একজন সহকারীও রেখেছেন চেম্বারে। মহেশপুরের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে কিছুদিন সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি নিজেই চিকিৎসক বনে গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই চেম্বার পরিচালনা করলেও বাহ্যিক আচরণ ও প্রচারণায় নিজেকে বড় মাপের ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অনূরূপে তৈরি করেছেন ব্যবস্থাপত্র।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মামুন কবির নিজেকে অভিজ্ঞ ডেন্টাল চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দাঁতের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। তার চেম্বারে দাঁতের এক্স-রে করা থেকে শুরু করে স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্যাপ-ব্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রও লিখে দিচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তার কথাবার্তা ও চেম্বারের পরিবেশ দেখে সাধারণ মানুষেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্ব-ঘোষিত দন্ত চিকিৎসক মামুন কবির’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেয়নি। এইচএসসি পাশ করার পর মহেশপুরের ঢাকা ডেন্টাল কেয়ার থেকে হাতে কলমে কাজ শিখে নিজে চেম্বার করেছি। আমার এখানে যশোর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে মাঝে মাঝে রোগী দেখেন।
তিনি আরও জানান, যেহুতে আমার কোন স্বীকৃত সনদ নাই। সামনে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে নিবো। এবিষয়ে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথাবার্তা চলছে।
এদিকে, ভুয়া দন্ত চিকিৎসক মামুন কবির চৌগাছার একাধিক প্রভাবশালী নেতা এবং যশোরের একটি সাংবাদিক মহলকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। এমনকি সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ারও হুমকি প্রদান করেছেন ওই ভুয়া দন্ত চিকিৎসক মামুন কবির।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমী’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ও নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতনমহলের মতে, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান না থাকায় এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি প্রতারিত হবেন। এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।
.png)
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
যশোরের চৌগাছা উপজেলার কয়ারপাড়া কড়াইতলা বাজারে (ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে) মামুন কবির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাঁতের ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত স্বীকৃত কোন ডিগ্রি বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার খুলে রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যশোরের চৌগাছা থানাধীন কয়ারপাড়া বাজার মোড়ে মামুন ডেন্টাল কেয়ার নামে একটি দন্ত চিকিৎসালয় খুলে মামুন কবির নামে এক ব্যক্তি নিজেকে দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসক মামুন কবির জাহিদ রানা নামে একজন সহকারীও রেখেছেন চেম্বারে। মহেশপুরের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে কিছুদিন সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি নিজেই চিকিৎসক বনে গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই চেম্বার পরিচালনা করলেও বাহ্যিক আচরণ ও প্রচারণায় নিজেকে বড় মাপের ডাক্তার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অনূরূপে তৈরি করেছেন ব্যবস্থাপত্র।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মামুন কবির নিজেকে অভিজ্ঞ ডেন্টাল চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দাঁতের বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। তার চেম্বারে দাঁতের এক্স-রে করা থেকে শুরু করে স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্যাপ-ব্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রও লিখে দিচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তার কথাবার্তা ও চেম্বারের পরিবেশ দেখে সাধারণ মানুষেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। চিকিৎসা নিতে গিয়ে কেউ কেউ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্ব-ঘোষিত দন্ত চিকিৎসক মামুন কবির’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেয়নি। এইচএসসি পাশ করার পর মহেশপুরের ঢাকা ডেন্টাল কেয়ার থেকে হাতে কলমে কাজ শিখে নিজে চেম্বার করেছি। আমার এখানে যশোর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে মাঝে মাঝে রোগী দেখেন।
তিনি আরও জানান, যেহুতে আমার কোন স্বীকৃত সনদ নাই। সামনে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে নিবো। এবিষয়ে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথাবার্তা চলছে।
এদিকে, ভুয়া দন্ত চিকিৎসক মামুন কবির চৌগাছার একাধিক প্রভাবশালী নেতা এবং যশোরের একটি সাংবাদিক মহলকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। এমনকি সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ারও হুমকি প্রদান করেছেন ওই ভুয়া দন্ত চিকিৎসক মামুন কবির।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমী’র নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ও নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা প্রদান সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতনমহলের মতে, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান না থাকায় এ ধরনের প্রতারণা বাড়ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি প্রতারিত হবেন। এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।
.png)
আপনার মতামত লিখুন