আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব ‘মেকআপ আর্টিস্টে আমার গুরু আমার মা’ আবির আহমেদ
আবির আহমেদ, বাবার বাড়ি কুমিল্লার মোহনপুর উপজেলায় হলেও জন্ম ঢাকায়। বাবা সিলেটে পাথরের ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসার কারণে তিনি পরিবারসহ সিলেটের ছাতকে স্থায়ীভাবে চলে আসেন-তখন আবিরের বয়স মাত্র ৬ মাস। ছাতকেই আবিরের বেড়ে ওঠা।শুরুটা ছিল খুবই সুন্দর-হাসি-খুশিতে ভরা একটি সুখের পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সুখের জীবন ভেঙে যায়। আবিরেরবয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই মুহূর্ত থেকেই আবিরের পরিবারের জীবনে নেমে আসে এক গভীর দুঃখের ছায়া।কিন্তু আবিরের মা হাল ছাড়েননি। তিনি ছিলেন ছাতকের একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট এবং ওই এলাকার সর্বপ্রথম দিকের মেকআপ আর্টিস্টদের একজন। হাজারো কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্যেও তিনি একাই লড়াই করে আবিরের চার ভাইবোনকে (এক ভাই, তিন বোন) মানুষ করেছেন।বাবা হারানোর পর আত্মীয়-স্বজন দুই পক্ষই উচ্চবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও কেউ আবিরের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি।সেই কঠিন সময়ে আবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তার মা, ও তার বোনেরা এবং তার নানু-যিনি আজ তাহাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু তার দোয়া ও ভালোবাসা আজও এগিয়ে যেতে সাহস দেয়।আবির ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাজ দেখে দেখে মেকআপ আর্ট এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি হয়। সেই ভালোবাসা থেকেই আজ আবির একজন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছে-আর তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব, তার গুরু আবিরের নিজের মা।আবির বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় অনেক তারকার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, যেমন মেহজাবিন চৌধুরী, বিদ্যা সিনহা মীম, কেয়া পায়েল, তানজিন তিশাসহ আরও অনেকে।মেকআপের পাশাপাশি আবির ফিল্ম ও মিডিয়াতে কস্টিউম ডিজাইনিং নিয়েও কাজ করেছে, যা কাজের পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।আবির বলেন,আমার স্বপ্ন-একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে নিজের দেশ, নিজের পরিবার এবং সবচেয়ে বেশি আমার মায়ের নাম উজ্জ্বল করা। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং আমার নিরলস পরিশ্রম এই তিনটাই আমাকে একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে।