বরগুনায় মাত্র ১২০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হওয়া মো: হাসিবুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে নিশ্চিত করেছে বরগুনা জেলা পুলিশ। একই সাথে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।সম্প্রতি ফেসবুকে হাসিবুর রহমানের (পিতা—মাসুদুর রহমান, গ্রাম—পশ্চিম বকুলতলী, বেতাগী) একটি ফেসবুক বায়ো’র স্ক্রিনশট শেয়ার করে তাকে ‘চান্দখালী মোশারেফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ’ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করে জেলা পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি বরগুনা জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়েছে।জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কলেজ শাখার অনুমোদিত কমিটির কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২১ সালের চান্দখালী মোশারেফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ শাখার আংশিক কমিটিতে প্রকৃত সভাপতি ছিলেন মো: সাব্বির হাওলাদার। সদ্য মনোনীত কনস্টেবল প্রার্থী মো: হাসিবুর রহমানের নাম উক্ত অফিসিয়াল কমিটির কোথাও নেই।তবে কৌতূহলবশত বা ব্যক্তিগত কারণে মো: হাসিবুর রহমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডির বায়ো’তে (Bio) "সভাপতি, চান্দখালী মোশারেফ হোসেন ডিগ্রী কলেজ শাখা" লেখা ছিল, যার সাথে বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পদের মিল বা ভিত্তি নেই। উক্ত ফেসবুক আইডির বায়ো’র স্ক্রিনশটটি ব্যবহার করেই মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এবারের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। শারীরিক, লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও ভাইভা পরীক্ষা শেষে যথাযথ প্রক্রিয়াই ১৭ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত এবং ০৩ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।"বরগুনা জেলা পুলিশ সর্বদা নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কোনো প্রকার যাচাই—বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো। অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।"ইতোমধ্যেই ফেসবুকে ছড়ানো এমন বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ভিডিও ও রিলসের লিংক (যেমন: https://www.facebook.com/share/1Bss6QKz8D/, https://www.facebook.com/share/v/1E1nPAXTFg/ ইত্যাদি) চিহ্নিত করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট।সচেতন মহল মনে করছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের যোগ্য সন্তান (যার বসতঘরের ছবি দেখলেই বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট হয়) মেধার জোরে চাকরি পাওয়ার পর এমন সস্তা ফেসবুক ট্রোল বা গুজব ছড়িয়ে তার ক্যারিয়ার ও পুলিশের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস অত্যন্ত দুঃখজনক।