মণিরামপুরে বেড়েছে ভুয়া ফেসবুক আইডি, বিপাকে সর্বস্তরের মানুষ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জনপদ যশোরের মণিরামপুরে এক ভয়াবহ ডিজিটাল অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের সম্মানিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে যে লাগাতার চরিত্রহননের মহোৎসব শুরু হয়েছে, তা এখন ওই অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মুক্ত সাংবাদিকতার সামনে এক চরম অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সাইবার আক্রমণের নেপথ্যে কোনো সাধারণ অপরাধী চক্র নয়, বরং স্থানীয় সাংবাদিকতার আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই অশুভ চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে মণিরামপুরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে টেন্ডারবাজি, বদলি বাণিজ্য ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত, সাদাকে কালো, কালোকে সাদা করার মাধ্যমে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে আসছিল। তবে বর্তমান সময়ে তরুণ ও নির্ভীক সংবাদকর্মীরা যখন এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরছেন এবং সরকারি অর্থের লুটপাটে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, তখনই শুরু হয়েছে এই সুক্ষ্ম ও নোংরা ‘চরিত্রহনন’ যুদ্ধ।[TECHTARANGA-POST:234]কেন্দ্রীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন ও শীর্ষ নেতাদের মতে, এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়; বরং সাংবাদিকতার ময়দান দখল করে রাখার এক সুপরিকল্পিত অপকৌশল। তরুণ সাংবাদিকরা যাতে প্রবীণদের এই অবৈধ ‘অর্থ বাণিজ্যের’ পথে অন্তরায় না হতে পারে, সেজন্যই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাদের মানসিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা চলছে। গত আঠারো মাসে এমন বহু ঘটনা ঘটলেও সিনিয়র মহল থেকে কোন প্রতিবাদ বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গত কয়েক দিনে মণিরামপুরের অত্যন্ত পরিচিত ও আপোষহীন সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পরিচালিত কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার এই সংকটের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও বড় বড় দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচনের কারণে মামুন একটি বিশেষ মহলের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন। তাকে পেশাগতভাবে দমাতে ব্যর্থ হয়ে এখন সাইবার সন্ত্রাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ওই সুবিধাভোগী ও দালাল চক্রটি।[TECHTARANGA-POST:230]তবে এই পুরো পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগের দিকটি হলো স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ সাংবাদিকরা একের পর এক সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই সব সাইবার অপরাধীদের সক্রিয় টিমের সাথে থানা পুলিশের মুষ্টিমেয় কিছু কর্মকর্তার গোপন সখ্যতা রয়েছে। অপরাধীদের নিয়মিত থানায় যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের মনে এই বার্তা দিচ্ছে যে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে। এই পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকরা একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন যে, এটি কি নিছক অযোগ্যতা নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে আড়াল করার সচেতন ‘লুকোচুরি’।অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগে অপরাধীদের ডিজিটাল পদচিহ্ন শনাক্ত করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সহজসাধ্য হলেও মণিরামপুরে কেন তা হচ্ছে না, তা এক বড় রহস্য। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যখন আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ বাধ্য হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে। মণিরামপুরের সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ বর্তমানে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামাজিক সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার রূপ নিতে পারে।[TECHTARANGA-POST:193]
মণিরামপুরের তরুন সাংবাদিক সমাজ মনে করছেন, এই আক্রমণ সরাসরি তাদের কলমের ওপর এবং এটি মুক্ত সাংবাদিকতাকে একটি অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি করার নামান্তর। অপরাধীরা যতই চতুর হোক না কেন, তাদের রেখে যাওয়া সূত্রগুলো পুলিশ চাইলে মুহূর্তেই খুঁজে বের করা সম্ভব। এখনই যদি এই ‘ডিজিটাল মাফিয়া’ চক্রকে আইনের আওতায় আনা না হয় এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা কালো ভেড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে মণিরামপুরের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- প্রশাসন কি শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের বন্ধু হিসেবেই পরিচিতি পাবে, নাকি জনগণের সেবক হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে? এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মণিরামপুর এখন এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের অপেক্ষায় রয়েছে, যা প্রশমনে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।