সার্চ টুডে

আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে বৃত্তির সুযোগ



আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে বৃত্তির সুযোগ

জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এসেছে দারুণ এক সুযোগ। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ দেয় দেশটি, যার মধ্যে অন্যতম মেক্সট স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপের সুবিধা হলো আবেদন বা ভর্তি হতেও কোনো ফি লাগে না। মাসিক উপবৃত্তি, বিমানে যাতায়াত খরচসহ নানা সুযোগ-সুবিধা মেলে এ বৃত্তি পেলে। আইইএলটিএস কিংবা টোয়েফল ছাড়াই করা যায় আবেদন। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি হতে হবে।

জাপান সরকারের সেই মেক্সট বৃত্তির জন্য আবেদন গ্রহণ চলছে। ২০২৭ সালে জাপানে গবেষণা (স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি), স্নাতক, কলেজ অব টেকনোলজি এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিং প্রোগ্রামে যুক্ত হতে চাইলে আবেদন করতে পারেন।

গত ২৮ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গবেষণা পর্যায়ে (মাস্টার্স ও পিএইচডি) ৪০ জন, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ২৫ জন, কলেজ অব টেকনোলজি প্রোগ্রামের জন্য ১৫ জন এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজের জন্য ৫ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হবে। নির্বাচিতদের জাপান দূতাবাসে অনুষ্ঠেয় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের জন্য কিছু শর্তের কথা উল্লেখ আছে।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিজ নিজ দেশ থেকে জাপানে আসার জন্য ও ঠিক সময়ে ডিগ্রি শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বিমানভাড়া মেক্সট বহন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রকম টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি বা অন্যান্য কোনো ফি দিতে হয় না। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যাবতীয় ফি মওকুফ এবং পাবলিক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করে দেশটি।




সুযোগ-সুবিধা

১. বৃত্তিপ্রাপ্তদের কোনো টিউশন ফি বা ভর্তি ফি দেওয়া লাগবে না।

২. আবেদন করতেও কোনো ফি লাগবে না।

৩. আসা-যাওয়ার বিমান খরচও মিলবে।

৪. শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর দেখাতে হবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা ও পরীক্ষা হয়েছে, সেটির প্রমাণ লাগবে।



আবেদনের অন্যতম শর্ত

১. আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।

২. মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ১৯৯২ সালের ২ এপ্রিলের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে।

৩. আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০০২ সালের ২ এপ্রিলের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

৪. ট্রেনিং কলেজ প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০০২ সালের ২ এপ্রিলের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে। একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে হবে।



আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতা

ক. মাস্টার্স ও ডক্টরাল: (ফার্স্ট ফেজ) পর্যায়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

খ. ডক্টরাল কোর্স: (সেকেন্ড ফেজ) পর্যায়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে অথবা স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ দুই বছর বা তদূর্ধ্ব সময় বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

গ. ডক্টরাল কোর্স ( ফ্যাকাল্টিস অব মেডিসিন, ডেনটিস্ট্রি, ভেটেরিনারি সায়েন্সেস অ্যান্ড সারটেইন অ্যারিয়াস ইন ফার্মাসিউটিক্যাল) পর্যায়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে অথবা স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ দুই বছর বা তদূর্ধ্ব সময় বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো গবেষণা সংস্থায় গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

ঘ. আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও স্পেশালাইজড ট্রেনিং গ্রুপ পর্যায়ে আবেদনকারীকে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে (যেসব আবেদনকারী মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদনকারীকে একাদশ শ্রেণির ফলাফল দাখিল করতে হবে)। ‘কলেজ অব টেকনোলজি’ পর্যায়ে আবেদনকারীকে একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে হবে। ফলাফল দাখিল করতে হবে।

কোনো প্রার্থী একাধিক প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন না। যেকোনো একটি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যেমন সনদ, মার্কশিট ইত্যাদি মন্ত্রণালয়ে যথাসময়ে জমা দিতে ব্যর্থ হলেও আবেদন বাতিল হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় মূলত ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা যাচাই করা হবে। মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের জন্য মেক্সটের নিজস্ব সিজিপিএর একটি মানদণ্ড থাকতে হয়। জাপানের সেশনগুলো দুটো সেমিস্টারে শুরু হয়। জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মেক্সটের ওয়েবসাইটেও ‘মেক্সট’ বৃত্তির যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়।

আবেদনকারীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের http://202.4.112.150:3030/auth/login আবেদন করতে হবে। ১২ মে ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

বৃত্তির আবেদনসহ বিস্তারিত দেখতে এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানে বৃত্তির সুযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাপানে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এসেছে দারুণ এক সুযোগ। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ দেয় দেশটি, যার মধ্যে অন্যতম মেক্সট স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপের সুবিধা হলো আবেদন বা ভর্তি হতেও কোনো ফি লাগে না। মাসিক উপবৃত্তি, বিমানে যাতায়াত খরচসহ নানা সুযোগ-সুবিধা মেলে এ বৃত্তি পেলে। আইইএলটিএস কিংবা টোয়েফল ছাড়াই করা যায় আবেদন। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি হতে হবে।



জাপান সরকারের সেই মেক্সট বৃত্তির জন্য আবেদন গ্রহণ চলছে। ২০২৭ সালে জাপানে গবেষণা (স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি), স্নাতক, কলেজ অব টেকনোলজি এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিং প্রোগ্রামে যুক্ত হতে চাইলে আবেদন করতে পারেন।



গত ২৮ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গবেষণা পর্যায়ে (মাস্টার্স ও পিএইচডি) ৪০ জন, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ২৫ জন, কলেজ অব টেকনোলজি প্রোগ্রামের জন্য ১৫ জন এবং স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজের জন্য ৫ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হবে। নির্বাচিতদের জাপান দূতাবাসে অনুষ্ঠেয় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের জন্য কিছু শর্তের কথা উল্লেখ আছে।



বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিজ নিজ দেশ থেকে জাপানে আসার জন্য ও ঠিক সময়ে ডিগ্রি শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বিমানভাড়া মেক্সট বহন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রকম টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি বা অন্যান্য কোনো ফি দিতে হয় না। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যাবতীয় ফি মওকুফ এবং পাবলিক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করে দেশটি।




সুযোগ-সুবিধা



১. বৃত্তিপ্রাপ্তদের কোনো টিউশন ফি বা ভর্তি ফি দেওয়া লাগবে না।

২. আবেদন করতেও কোনো ফি লাগবে না।

৩. আসা-যাওয়ার বিমান খরচও মিলবে।

৪. শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর দেখাতে হবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা ও পরীক্ষা হয়েছে, সেটির প্রমাণ লাগবে।



আবেদনের অন্যতম শর্ত



১. আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।

২. মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ১৯৯২ সালের ২ এপ্রিলের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে।

৩. আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০০২ সালের ২ এপ্রিলের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

৪. ট্রেনিং কলেজ প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০০২ সালের ২ এপ্রিলের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে। একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে হবে।



আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতা



ক. মাস্টার্স ও ডক্টরাল: (ফার্স্ট ফেজ) পর্যায়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

খ. ডক্টরাল কোর্স: (সেকেন্ড ফেজ) পর্যায়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে অথবা স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ দুই বছর বা তদূর্ধ্ব সময় বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

গ. ডক্টরাল কোর্স ( ফ্যাকাল্টিস অব মেডিসিন, ডেনটিস্ট্রি, ভেটেরিনারি সায়েন্সেস অ্যান্ড সারটেইন অ্যারিয়াস ইন ফার্মাসিউটিক্যাল) পর্যায়ে আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে অথবা স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ দুই বছর বা তদূর্ধ্ব সময় বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো গবেষণা সংস্থায় গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

ঘ. আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও স্পেশালাইজড ট্রেনিং গ্রুপ পর্যায়ে আবেদনকারীকে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে (যেসব আবেদনকারী মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদনকারীকে একাদশ শ্রেণির ফলাফল দাখিল করতে হবে)। ‘কলেজ অব টেকনোলজি’ পর্যায়ে আবেদনকারীকে একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে হবে। ফলাফল দাখিল করতে হবে।



কোনো প্রার্থী একাধিক প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন না। যেকোনো একটি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যেমন সনদ, মার্কশিট ইত্যাদি মন্ত্রণালয়ে যথাসময়ে জমা দিতে ব্যর্থ হলেও আবেদন বাতিল হতে পারে।



প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় মূলত ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতা যাচাই করা হবে। মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদনের জন্য মেক্সটের নিজস্ব সিজিপিএর একটি মানদণ্ড থাকতে হয়। জাপানের সেশনগুলো দুটো সেমিস্টারে শুরু হয়। জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মেক্সটের ওয়েবসাইটেও ‘মেক্সট’ বৃত্তির যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়।



আবেদনকারীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের http://202.4.112.150:3030/auth/login আবেদন করতে হবে। ১২ মে ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।


বৃত্তির আবেদনসহ বিস্তারিত দেখতে এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে