সার্চ টুডে

আল নাসরে রোনালদোর ট্রফি-অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো



আল নাসরে রোনালদোর ট্রফি-অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো
ছবি : সংগৃহীত

পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে সুযোগটা ছিল বড়। ঘরের মাঠে ফাইনাল, তারকায় ঠাসা আল নাসর, আর সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু শিরোপা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই রাতও শেষ হলো হতাশায়। রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে আল নাসরের হয়ে প্রথম ট্রফি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো রোনালদোর।

শনিবার (১৬ মে) রাতে ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন গাম্বা ওসাকার ডেনিজ হুমেত। ৩০ মিনিটে ইসাম জেবালির পাস থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ছিল আল নাসরের, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার শাস্তিই পায় সৌদি ক্লাবটি।

রোনালদোর জন্য রাতটি ছিল বিশেষ হতাশার। সৌদি আরবে আসার পর ব্যক্তিগত গোলের ধারায় আলোচনায় থাকলেও আল নাসরের হয়ে বড় ট্রফি এখনো অধরা তার। এই ফাইনাল ছিল সেই অপেক্ষা শেষ করার আরেকটি সুযোগ। কিন্তু গাম্বা ওসাকার শৃঙ্খলিত রক্ষণ, গোলকিপার রুই আরাকির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং আল নাসরের ফিনিশিং ব্যর্থতা রোনালদোর ট্রফি স্বপ্ন আবার থামিয়ে দিল।


রোনালদো ও সাদিও মানে দুজনই গোলের সামনে সুযোগ পেয়েছিলেন। মানে ম্যাচের শুরুতেই ভালো অবস্থান থেকে শট নিলেও ১৮ বছর বয়সী গোলকিপার আরাকিকে পরাস্ত করতে পারেননি। রোনালদোও কয়েকবার বিপজ্জনক অবস্থানে বল পেয়েছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। ৮৬ মিনিটে তাঁর সামনে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু গেন্তা মিউরার শেষ মুহূর্তের ব্লকে সেটিও কর্নারে পরিণত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে আল নাসর পুরোপুরি চাপ বাড়ায়। জোয়াও ফেলিক্সের জোরালো শট পোস্টে লাগে, ইনিগো মার্তিনেজ ও মানের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন আরাকি। শেষ দিকে কিংসলে কোমান ও সালেম আল নাজদিকে নামিয়ে আক্রমণে ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ জর্জ জেসুস। কিন্তু গাম্বা ওসাকার রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত ভাঙেনি।

গাম্বা ওসাকার জন্য এটি বড় সাফল্য। ২০০৮ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর এটি তাদের প্রথম বড় মহাদেশীয় ট্রফি। রিয়াদের প্রতিকূল পরিবেশে তারা খেলেছে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনায়। তারকায় ভরা আল নাসরের বিপক্ষে দলগত সংগঠনই শেষ পর্যন্ত জাপানি ক্লাবটিকে শিরোপা এনে দিয়েছে।

আল নাসরের জন্য হারটি আরও বেদনাদায়ক, কারণ ফাইনালটি হয়েছিল তাদের ঘরের মাঠেই। সৌদি ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগের যুগে রোনালদো, মানে, ফেলিক্সদের নিয়ে এই ট্রফি জয়ের আশা ছিল প্রবল। কিন্তু ফেবারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নেমেও গাম্বা ওসাকার সামনে থেমে গেল আল নাসর।

রোনালদোর আল নাসর অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্নও তাই আরও জোরালো হলো ব্যক্তিগত গোলের ঝলক থাকলেও দলগত ট্রফি কবে? এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু ফাইনাল সেই উত্তর দেওয়ার মঞ্চ হতে পারত এখন শেষ ভরসা সৌদি প্রো লিগ।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


আল নাসরে রোনালদোর ট্রফি-অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সামনে সুযোগটা ছিল বড়। ঘরের মাঠে ফাইনাল, তারকায় ঠাসা আল নাসর, আর সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু শিরোপা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই রাতও শেষ হলো হতাশায়। রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে আল নাসরের হয়ে প্রথম ট্রফি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো রোনালদোর।


শনিবার (১৬ মে) রাতে ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন গাম্বা ওসাকার ডেনিজ হুমেত। ৩০ মিনিটে ইসাম জেবালির পাস থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ছিল আল নাসরের, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার শাস্তিই পায় সৌদি ক্লাবটি।


রোনালদোর জন্য রাতটি ছিল বিশেষ হতাশার। সৌদি আরবে আসার পর ব্যক্তিগত গোলের ধারায় আলোচনায় থাকলেও আল নাসরের হয়ে বড় ট্রফি এখনো অধরা তার। এই ফাইনাল ছিল সেই অপেক্ষা শেষ করার আরেকটি সুযোগ। কিন্তু গাম্বা ওসাকার শৃঙ্খলিত রক্ষণ, গোলকিপার রুই আরাকির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং আল নাসরের ফিনিশিং ব্যর্থতা রোনালদোর ট্রফি স্বপ্ন আবার থামিয়ে দিল।


রোনালদো ও সাদিও মানে দুজনই গোলের সামনে সুযোগ পেয়েছিলেন। মানে ম্যাচের শুরুতেই ভালো অবস্থান থেকে শট নিলেও ১৮ বছর বয়সী গোলকিপার আরাকিকে পরাস্ত করতে পারেননি। রোনালদোও কয়েকবার বিপজ্জনক অবস্থানে বল পেয়েছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। ৮৬ মিনিটে তাঁর সামনে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু গেন্তা মিউরার শেষ মুহূর্তের ব্লকে সেটিও কর্নারে পরিণত হয়।


দ্বিতীয়ার্ধে আল নাসর পুরোপুরি চাপ বাড়ায়। জোয়াও ফেলিক্সের জোরালো শট পোস্টে লাগে, ইনিগো মার্তিনেজ ও মানের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন আরাকি। শেষ দিকে কিংসলে কোমান ও সালেম আল নাজদিকে নামিয়ে আক্রমণে ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ জর্জ জেসুস। কিন্তু গাম্বা ওসাকার রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত ভাঙেনি।


গাম্বা ওসাকার জন্য এটি বড় সাফল্য। ২০০৮ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর এটি তাদের প্রথম বড় মহাদেশীয় ট্রফি। রিয়াদের প্রতিকূল পরিবেশে তারা খেলেছে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনায়। তারকায় ভরা আল নাসরের বিপক্ষে দলগত সংগঠনই শেষ পর্যন্ত জাপানি ক্লাবটিকে শিরোপা এনে দিয়েছে।


আল নাসরের জন্য হারটি আরও বেদনাদায়ক, কারণ ফাইনালটি হয়েছিল তাদের ঘরের মাঠেই। সৌদি ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগের যুগে রোনালদো, মানে, ফেলিক্সদের নিয়ে এই ট্রফি জয়ের আশা ছিল প্রবল। কিন্তু ফেবারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নেমেও গাম্বা ওসাকার সামনে থেমে গেল আল নাসর।


রোনালদোর আল নাসর অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্নও তাই আরও জোরালো হলো ব্যক্তিগত গোলের ঝলক থাকলেও দলগত ট্রফি কবে? এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু ফাইনাল সেই উত্তর দেওয়ার মঞ্চ হতে পারত এখন শেষ ভরসা সৌদি প্রো লিগ।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে