সার্চ টুডে

সেনবাগে পাঁচ প্রেসক্লাবের বদলে এক প্রেসক্লাব! ঐক্যের ডাক ইউএনও'র



সেনবাগে পাঁচ প্রেসক্লাবের বদলে এক প্রেসক্লাব! ঐক্যের ডাক ইউএনও'র


নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিভক্তি ও মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে আবারও সামনে এসেছে একক ও অভিন্ন প্রেসক্লাব গঠনের দাবি। বর্তমানে উপজেলায় পাঁচটি পৃথক সাংবাদিক সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংশ্লিষ্ট মহলে সাংবাদিকদের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জোরালো হয়ে উঠেছে।

সেনবাগে সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় "সেনবাগ প্রেসক্লাব"। এই সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম সারওয়ার রিপন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. খোরশেদ আলম ও কাজী ফখরুল ইসলাম। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি সাখাওয়াত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সায়েস্তানগরী।

এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় "সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব"। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. গিয়াস উদ্দিন স্বপন। সাংগঠনিক নিয়ম মেনে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন মো. সামছু উদ্দিন লিটন।

তবে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে গিয়াস উদ্দিন স্বপন একই নামে পৃথক আরেকটি সংগঠন গঠন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তাও ২০০১ সালে "সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব" প্রতিষ্ঠাকালে গিয়াস উদ্দিন স্বপন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, কিভাবে তিনি উক্ত ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে প্রচার করায় সাংবাদিক মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলমান। বিভিন্ন সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ব্যক্তির নাম প্রচার নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়।

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, মতপার্থক্য এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর "সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব" নামে আরও একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন মো. নিজাম উদ্দিন খন্দকার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন আলো। প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন মাস পর সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে "উপজেলা প্রেসক্লাব সেনবাগ" রাখা হয়।

এদিকে নতুন এই সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সাংবাদিক ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ রিপন ও এ কে এম নোমান প্রতিষ্ঠা করেন "সেনবাগ রিপোর্টার্স ক্লাব"। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ রিপন এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নোমান।

এভাবে বর্তমানে সেনবাগে পাঁচটি পৃথক সাংবাদিক সংগঠন সক্রিয় থাকলেও সাংবাদিক সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুমের সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের বরাত দিয়ে ইউএনও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেনবাগের সকল সাংবাদিক সংগঠনকে একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী ও অভিন্ন প্রেসক্লাব গঠন করতে হবে।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা, পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার আদায় এবং জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে কাজ করার বিকল্প নেই।

এ লক্ষে প্রেসক্লাব গুলোর প্রতিনিধিরা এক ও অভিন্ন প্রেসক্লাবের পক্ষে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। 

এখন সেনবাগের সাংবাদিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন-দীর্ঘদিনের বিভক্তি ভুলে কি সত্যিই এক ছাতার নিচে আসতে পারবেন সাংবাদিকরা? নাকি চলবে পৃথক সংগঠনের কার্যক্রম? সময়ই বলে দেবে সেনবাগের সাংবাদিক অঙ্গনের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


সেনবাগে পাঁচ প্রেসক্লাবের বদলে এক প্রেসক্লাব! ঐক্যের ডাক ইউএনও'র

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image



নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিভক্তি ও মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে আবারও সামনে এসেছে একক ও অভিন্ন প্রেসক্লাব গঠনের দাবি। বর্তমানে উপজেলায় পাঁচটি পৃথক সাংবাদিক সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সংশ্লিষ্ট মহলে সাংবাদিকদের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জোরালো হয়ে উঠেছে।


সেনবাগে সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় "সেনবাগ প্রেসক্লাব"। এই সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম সারওয়ার রিপন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. খোরশেদ আলম ও কাজী ফখরুল ইসলাম। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি সাখাওয়াত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সায়েস্তানগরী।


এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় "সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব"। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. গিয়াস উদ্দিন স্বপন। সাংগঠনিক নিয়ম মেনে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন মো. সামছু উদ্দিন লিটন।


তবে ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে গিয়াস উদ্দিন স্বপন একই নামে পৃথক আরেকটি সংগঠন গঠন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তাও ২০০১ সালে "সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব" প্রতিষ্ঠাকালে গিয়াস উদ্দিন স্বপন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, কিভাবে তিনি উক্ত ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে প্রচার করায় সাংবাদিক মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলমান। বিভিন্ন সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ব্যক্তির নাম প্রচার নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়।


পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, মতপার্থক্য এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর "সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব" নামে আরও একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন মো. নিজাম উদ্দিন খন্দকার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন আলো। প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন মাস পর সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে "উপজেলা প্রেসক্লাব সেনবাগ" রাখা হয়।


এদিকে নতুন এই সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সাংবাদিক ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ রিপন ও এ কে এম নোমান প্রতিষ্ঠা করেন "সেনবাগ রিপোর্টার্স ক্লাব"। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ রিপন এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নোমান।


এভাবে বর্তমানে সেনবাগে পাঁচটি পৃথক সাংবাদিক সংগঠন সক্রিয় থাকলেও সাংবাদিক সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুমের সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের বরাত দিয়ে ইউএনও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেনবাগের সকল সাংবাদিক সংগঠনকে একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী ও অভিন্ন প্রেসক্লাব গঠন করতে হবে।


সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা, পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার আদায় এবং জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে বিভক্তির রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে কাজ করার বিকল্প নেই।


এ লক্ষে প্রেসক্লাব গুলোর প্রতিনিধিরা এক ও অভিন্ন প্রেসক্লাবের পক্ষে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। 


এখন সেনবাগের সাংবাদিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন-দীর্ঘদিনের বিভক্তি ভুলে কি সত্যিই এক ছাতার নিচে আসতে পারবেন সাংবাদিকরা? নাকি চলবে পৃথক সংগঠনের কার্যক্রম? সময়ই বলে দেবে সেনবাগের সাংবাদিক অঙ্গনের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে