ফেনী জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জনপদ। ঝড়ের তাণ্ডবে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতবাড়ি। রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে পুরো জেলা কার্যত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরশুরাম পৌর এলাকার বাসপদুয়া, গুথুমা এবং মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, নিজকালিকাপুর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের তীব্রতায় গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গুথুমা গ্রামের বাসিন্দা নাসির চৌধুরী জানান, তাদের গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ট্রান্সফরমার মাটিতে পড়ে গেছে। বাসপদুয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ডলার ও নিজকালিকাপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আখতার বলেন, ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনসহ সব ১১ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একাধিক স্থানে খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা লাইন সচল করতে কাজ করছেন।
এদিকে ফুলগাজীতেও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের কারণে মুন্সীরহাট-নোয়াপুর সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করেন। ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে আমাদের টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলগাজী জোনের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলার ১০টি ফিডারের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন। মাঠকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে সংস্কার কাজ চালালেও সংযোগ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া জেলার সদর উপজেলা এবং দাগনভুঞা ও সোনাগাজীতে ও তান্ডব চালিয়েছে ঝড়টি। এতে নানা স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে ফেনীর হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ফেনী জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জনপদ। ঝড়ের তাণ্ডবে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতবাড়ি। রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে পুরো জেলা কার্যত বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরশুরাম পৌর এলাকার বাসপদুয়া, গুথুমা এবং মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, নিজকালিকাপুর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের তীব্রতায় গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গুথুমা গ্রামের বাসিন্দা নাসির চৌধুরী জানান, তাদের গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ট্রান্সফরমার মাটিতে পড়ে গেছে। বাসপদুয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ডলার ও নিজকালিকাপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত।
পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আখতার বলেন, ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনসহ সব ১১ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একাধিক স্থানে খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা লাইন সচল করতে কাজ করছেন।
এদিকে ফুলগাজীতেও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের কারণে মুন্সীরহাট-নোয়াপুর সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করেন। ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে আমাদের টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলগাজী জোনের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলার ১০টি ফিডারের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন। মাঠকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে সংস্কার কাজ চালালেও সংযোগ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া জেলার সদর উপজেলা এবং দাগনভুঞা ও সোনাগাজীতে ও তান্ডব চালিয়েছে ঝড়টি। এতে নানা স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে ফেনীর হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন