আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর রাজপথে মানুষের দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস—এই দুইয়ের সমান্তরাল এক চিত্র আজ দেখল যশোরবাসী। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত এই জেলায় বৃহস্পতিবারের দুপুরটি যেন সবটুকু মানবিকতাকে হার মানিয়েছে। তেলের জন্য কিলোমিটার ব্যাপী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো যখন বৃষ্টির তোড়ে ভিজছিলেন, তখন তাদের চোখেমুখের অসহায়ত্ব হার মানিয়েছে প্রকৃতির রুদ্ররূপকেও।
গত এক মাস ধরেই যশোরে তেলের সংকট এক মরণকামড় দিয়ে বসে আছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ভোর ৭টা থেকেই শহরের প্রতিটি পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের চাকা থমকে দাঁড়ায়। পাম্প খোলার আগেই তৈরি হয় শত শত মানুষের এক অবিচ্ছেদ্য সারি। কারো গন্তব্য অফিস, কারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—কিন্তু সবার পথ এসে আটকে গেছে পেট্রোল পাম্পের লোহার গেটে।
সকাল গড়িয়ে দুপুর ১টা। প্রখর রোদের পর হঠাৎ শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সাধারণ সময়ে বৃষ্টির ঝাপটা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পাঠালেও আজ চিত্র ছিল ভিন্ন। লাইনে নিজের অবস্থান হারানো আর এক ফোটা জ্বালানি না পাওয়ার আশঙ্কায় কেউ এক ইঞ্চিও নড়েননি। শত শত মানুষ বাইক ধরে দাঁড়িয়ে আছেন মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে। কারো মাথায় এক টুকরো পলিথিন, কেউবা ছাতা ছাড়াই সিক্ত শরীরে ঠায় দাঁড়িয়ে। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে থাকা মানুষের এই মৌন মিছিল প্রমাণ করে দিচ্ছে—বেঁচে থাকার তাগিদে এক লিটার তেল আজ কতটা দামী।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যবয়সী এক চালকের আর্তনাদ ছিল এমন:"সকাল থেকে না খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখন বৃষ্টিতে শরীর ভিজে একাকার। লাইন ছেড়ে আশ্রয় নিতে গেলে যদি তেল শেষ হয়ে যায়? এই কষ্টের বিচার কে করবে?"পাম্প কর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা আর মাঝেমধ্যে ছোটখাটো উত্তেজনা আজ ডালভাতে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও মানুষ কেবল এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন—যদি একটু তেল মেলে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, সংকটের সমাধান এখনো দিগন্তরেখায় দেখা যাচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ এখন কেবল ভোগান্তি নয়, বরং এক চরম অমানবিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।যশোরের রাজপথে আজ বৃষ্টি আর তেলের লাইনের যে অদ্ভুত মিতালী দেখা গেল, তা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়—বরং এক নিদারুণ বেঁচে থাকার লড়াই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ভেজা শরীরগুলোর ক্ষোভ যে আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠবে না, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না।
বিষয় : জনদুর্ভোগ
.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর রাজপথে মানুষের দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস—এই দুইয়ের সমান্তরাল এক চিত্র আজ দেখল যশোরবাসী। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত এই জেলায় বৃহস্পতিবারের দুপুরটি যেন সবটুকু মানবিকতাকে হার মানিয়েছে। তেলের জন্য কিলোমিটার ব্যাপী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো যখন বৃষ্টির তোড়ে ভিজছিলেন, তখন তাদের চোখেমুখের অসহায়ত্ব হার মানিয়েছে প্রকৃতির রুদ্ররূপকেও।
গত এক মাস ধরেই যশোরে তেলের সংকট এক মরণকামড় দিয়ে বসে আছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ভোর ৭টা থেকেই শহরের প্রতিটি পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের চাকা থমকে দাঁড়ায়। পাম্প খোলার আগেই তৈরি হয় শত শত মানুষের এক অবিচ্ছেদ্য সারি। কারো গন্তব্য অফিস, কারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—কিন্তু সবার পথ এসে আটকে গেছে পেট্রোল পাম্পের লোহার গেটে।
সকাল গড়িয়ে দুপুর ১টা। প্রখর রোদের পর হঠাৎ শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সাধারণ সময়ে বৃষ্টির ঝাপটা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পাঠালেও আজ চিত্র ছিল ভিন্ন। লাইনে নিজের অবস্থান হারানো আর এক ফোটা জ্বালানি না পাওয়ার আশঙ্কায় কেউ এক ইঞ্চিও নড়েননি। শত শত মানুষ বাইক ধরে দাঁড়িয়ে আছেন মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে। কারো মাথায় এক টুকরো পলিথিন, কেউবা ছাতা ছাড়াই সিক্ত শরীরে ঠায় দাঁড়িয়ে। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে থাকা মানুষের এই মৌন মিছিল প্রমাণ করে দিচ্ছে—বেঁচে থাকার তাগিদে এক লিটার তেল আজ কতটা দামী।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যবয়সী এক চালকের আর্তনাদ ছিল এমন:"সকাল থেকে না খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখন বৃষ্টিতে শরীর ভিজে একাকার। লাইন ছেড়ে আশ্রয় নিতে গেলে যদি তেল শেষ হয়ে যায়? এই কষ্টের বিচার কে করবে?"পাম্প কর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা আর মাঝেমধ্যে ছোটখাটো উত্তেজনা আজ ডালভাতে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও মানুষ কেবল এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন—যদি একটু তেল মেলে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, সংকটের সমাধান এখনো দিগন্তরেখায় দেখা যাচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ এখন কেবল ভোগান্তি নয়, বরং এক চরম অমানবিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।যশোরের রাজপথে আজ বৃষ্টি আর তেলের লাইনের যে অদ্ভুত মিতালী দেখা গেল, তা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়—বরং এক নিদারুণ বেঁচে থাকার লড়াই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ভেজা শরীরগুলোর ক্ষোভ যে আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠবে না, তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না।
.png)
আপনার মতামত লিখুন