যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং ২০টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র, হাসপাতাল ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের পর হঠাৎ করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ ঝড়।
ঝড়ের সময় মণিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত হন কৃষক লুৎফর রহমান সরদার। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, মণিরামপুরের মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় ঝড়ে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়। গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় ঝাঁপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কেশবপুরেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং তার ছিঁড়ে পড়েছে। আহতদের মধ্যে নয়জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে। এছাড়া আম ও কাঁঠালের বাগানেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি। আমার প্রতিষ্ঠানের ছাদের ওপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, ঝড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক জায়গায় তারের ওপর গাছ পড়ে আছে। কর্মীরা কাজ করছেন, তবে আজ রাতের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের জানান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
.png)
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
যশোরের মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৬টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং ২০টির বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র, হাসপাতাল ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের পর হঠাৎ করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ ঝড়।
ঝড়ের সময় মণিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত হন কৃষক লুৎফর রহমান সরদার। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, মণিরামপুরের মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় ঝড়ে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়। গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় ঝাঁপা, হরিহরনগর ও রাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কেশবপুরেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং তার ছিঁড়ে পড়েছে। আহতদের মধ্যে নয়জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বোরো ধান হেলে পড়েছে। এছাড়া আম ও কাঁঠালের বাগানেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি। আমার প্রতিষ্ঠানের ছাদের ওপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, ঝড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক জায়গায় তারের ওপর গাছ পড়ে আছে। কর্মীরা কাজ করছেন, তবে আজ রাতের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের জানান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন